জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর প্রথম ধাপের নির্বাচনের তফসিল চলতি জুলাই অথবা আগস্টের মধ্যেই ঘোষণা করা হতে পারে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
তিনি বলেন, যেসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি নেই এবং যেগুলোর আইনি মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, সেসব এলাকাকে প্রথম ধাপের নির্বাচনে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন একসাথেও আয়োজন করা হতে পারে।
তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের জন্য চালু করা পোস্টাল ব্যালট সুবিধা আপাতত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না বলে জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আইন সংশোধনের প্রস্তাবের কারণে নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলেও স্পষ্ট করেন আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনেই সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু পর্যবেক্ষণ যুক্ত করে আইন সংশোধনের প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে। সংশোধিত আইন কার্যকর হলে সে অনুযায়ী, আর না হলে বর্তমান আইনেই নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে নির্বাচনী আচরণবিধির পর্যালোচনার কাজ প্রায় শেষ করেছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এটি শিগগিরই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিদ্যমান আইনি অস্পষ্টতাও দূর করা হবে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এখন তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়েই নির্বাচনী কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।


