উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সীমান্তে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সেনারা দক্ষিণ কোরিয়ার অংশে ঢুকে পড়লে তাদের সতর্ক করতে গুলিবর্ষণ করে দক্ষিণের সেনাবাহিনী। এই ঘটনাকে চলতি বছরে উত্তর কোরিয়ার প্রথম সামরিক সীমারেখা লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর আল জাজিরার।
পূর্ব সীমান্তে সামরিক সীমারেখা বা ডিমিলিটারাইজড জোন (ডিএমজেড) সংক্ষিপ্তভাবে অতিক্রম করার পর উত্তর কোরিয়ার একদল সেনার ওপর সতর্কতামূলক ফাঁকা গুলি ছুড়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী।
রোববার (১৬ আগস্ট) সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে পূর্ব সীমান্ত এলাকার সামরিক সীমারেখা (এমডিএল) অতিক্রম করে দক্ষিণ কোরিয়ার অংশে প্রবেশ করে একাধিক উত্তর কোরীয় সেনা। এরপর সামরিক অপারেশনাল প্রসিডিউর বা নিয়ম অনুযায়ী সতর্কতামূলক গুলি চালানো হলে তারা দ্রুত নিজেদের দিকে ফিরে যায়। চলতি বছরে উত্তর কোরীয় সেনার পক্ষ থেকে সীমান্ত লঙ্ঘনের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার দিক থেকে সতর্কতামূলক গুলি চালানোর এটিই প্রথম ঘটনা।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সীমান্তে টহল দেওয়ার সময় ভুলবশত বা সীমান্ত পরিস্থিতি পরিদর্শনের সময় তারা সীমারেখা পার হয়েছিলেন। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরিয়ান যুদ্ধের পর থেকেই দুই কোরিয়াকে বিভক্তকারী ডিএমজেড এলাকায় এই সীমারেখা রয়েছে। সতর্কতামূলক গুলির পর উত্তর কোরীয় সেনারা পিছু হঠে এবং এরপর সেখানে আর কোনো অস্বাভাবিক তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি।
নিয়ম অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার সেনারা সীমারেখার কাছাকাছি এলে প্রথমে সতর্কতামূলক সম্প্রচার বা মাইকিং করা হয় এবং সীমা অতিক্রম করলে ফাঁকা গুলি ছুড়ে সতর্ক করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২০২৩ সালের শেষের দিকে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন আন্তঃকোরীয় সম্পর্ককে “দুটি শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র” হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় তাদের তৎপরতা ও ফর্টিফিকেশন বা দুর্গ নির্মাণের কাজ বাড়ার কারণে প্রায়ই এমন সীমান্ত লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে থাকে। এর আগের বছর উত্তর কোরীয় সেনারা ১৭ বার সামরিক সীমারেখা লঙ্ঘন করেছিল।

