...|...|...

বিশ্ব

ফোর্ট হুডে হামলা

সাবেক সেনা নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করবে যুক্তরাষ্ট্র

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:২৩
Shares
সাবেক সেনা নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করবে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ জনকে হত্যা মামলার অপরাধীর ফাঁসি বা ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। 

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পেন্টাগনের ঘোষণা অনুযায়ী, মার্কিন ইতিহাসে এটি হবে কোনো মৃত্যুদণ্ডের নজিরবিহীন সরাসরি সম্প্রচার।

সেনাবাহিনীর সাবেক মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ নিদাল হাসানকে এই ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ১৯৪৫ সালের পর মার্কিন সামরিক বাহিনী এই প্রথমবার ফায়ারিং স্কোয়াডে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, আগামী ৩ ডিসেম্বর টেক্সাসের সেই বিশাল সামরিক ঘাঁটিতেই এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন ধার্য করা হয়েছে, যেখানে চিকিৎসাকেন্দ্রে লেজার-সাইটেড হ্যান্ডগান নিয়ে নিদাল হাসান নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিলেন। গত সপ্তাহে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে এক নারীর প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থতার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্কের মাঝেই এই ঘোষণা এল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পেন্টাগন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, এটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, যিনি ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পক্ষে জোরালো ভূমিকা রেখেছিলেন, সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গণমাধ্যমগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ডগুলো টেলিভিশনে সম্প্রচার করার চেষ্টা চালালেও আদালতের বাধায় তা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে আইনি মৃত্যুদণ্ড টেলিভিশন বা লাইভস্ট্রিম করার মতো ঘটনা বিশ্বের অন্য কোনো দেশে জানা নেই। বিশ্বজুড়ে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বর্তমানে অত্যন্ত বিরল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ও তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানে প্রকাশ্যে এমন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রে বিচারবহির্ভূত লিঞ্চিং বা গণপিটুনির ঘটনা, বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ দলগুলোর কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের লক্ষ্য করে করা হামলাগুলো বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত প্রকাশ্যেই ঘটেছিল। মৃত্যুদণ্ড বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ আইনগতভাবে অনুমোদিত প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৩৬ সালে। একজন শ্বেতাঙ্গ নারীকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত এক তরুণ কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির সেই ফাঁসি দেখতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেছিল।

হেগসেথ ‘হিউম্যান ইভেন্টস ডেইলি’ প্রোগ্রামকে জানান, ২০০৯ সালের ঠিক যেদিন, যে সময়ে ও যে স্থানে গুলি চালানো হয়েছিল—ঠিক সেই বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় ফোর্ট হুডে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত সহজ একটি ব্যাপার।

হেগসেথ বলেন, আমরা নিশ্চিত করব যেন মানুষ এটি দেখতে পারে এবং এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। কারণ মানুষের এটা বোঝা দরকার যে... এ ধরনের কাজের জন্য মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হয়।”

নিদাল হাসানের শেষ কোনো ইচ্ছা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বলেন, পরোয়া করি না। আমরা ৩ ডিসেম্বর তাকে দেখতে পাব।