...|...|...

জাতীয়

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই: আইজিপি

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:৫৫ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:১১
Shares
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই: আইজিপি

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। ছবি: সংগৃহীত

প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তার ঠেকাতে পুলিশের দক্ষতা ও তদন্ত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে দক্ষ করে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ মামলা তদন্তবিষয়ক ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ (টিওটি) কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর ও অতিরিক্ত আইজি কাজী মো. ফজলুল করিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। স্বাগত বক্তব্য দেন ডিআইজি (ট্রেনিং) একরামুল হাবিব।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্রেনিং-২) ড. শেহেলা পারভীন সাইবার অপরাধ তদন্ত প্রশিক্ষণের রোডম্যাপ ও তা বাস্তবায়নের কৌশল তুলে ধরেন। এ সময় পুলিশ স্টাফ কলেজের বিভিন্ন অনুষদ সদস্য ও রিসোর্স পার্সনরা উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ, ক্লাউড কম্পিউটিংসহ আধুনিক প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। একই সাথে এসব প্রযুক্তির অপব্যবহার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা সাইবার প্রতারণা, অনলাইন আর্থিক জালিয়াতি, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, অনলাইন হয়রানি ও ডিজিটাল চাঁদাবাজির মতো অপরাধ করছে। ফলে সাইবার অপরাধের ধরন ও মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে প্রচলিত পুলিশিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা জরুরি।

আইজিপি আরও বলেন, আধুনিক পুলিশিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সাইবার অপরাধের দক্ষ তদন্ত। এ জন্য তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, টিওটি কোর্সের মাধ্যমে কর্মকর্তারা শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞানই অর্জন করবেন না, অন্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং কার্যকর যোগাযোগের দক্ষতাও অর্জন করবেন। প্রশিক্ষণ থেকে পাওয়া জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অন্য তদন্তকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আইজিপি বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা যদি দক্ষতার সাথে অন্য তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দিতে পারেন, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যে সাইবার অপরাধ তদন্তে সক্ষম কর্মকর্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে।

সময়োপযোগী এ প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ট্রেনিং উইং ও পুলিশ স্টাফ কলেজ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান আইজিপি। একই সাথে ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন এবং প্রশিক্ষণ উপকরণ ও কোর্স মডিউল সময়ের সাথে হালনাগাদ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।