...|...|...

লাইফস্টাইল

সন্তানদের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকে? কাজে দেবে এই ৬ কৌশল

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, সকাল ১০:৩২ | আপডেট: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:৩৭
Shares
সন্তানদের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকে? কাজে দেবে এই ৬ কৌশল

সন্তানদের ঝগড়া কমাতে অভিভাবকের ৬ কৌশল । ছবি: সংগৃহীত

একই বাড়িতে একাধিক সন্তান থাকলে তাদের মধ্যে খুনসুটি, মনোমালিন্য কিংবা ঝগড়া হওয়া খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ঝগড়া যদি নিয়মিত মারামারি, রাগ বা একে অপরকে সহ্য করতে না পারার পর্যায়ে চলে যায়, তখন বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের ভাবতে হয়। অনেক সময় বাবা-মায়ের মনোযোগ পাওয়ার প্রতিযোগিতা, ঈর্ষা, বয়সের পার্থক্য কিংবা একে অপরকে বুঝতে না পারা থেকেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

শুধু বকাঝকা বা শাস্তি দিয়ে ভাই-বোনের সম্পর্ক ভালো করা যায় না। বরং বাবা-মায়ের কিছু সচেতন আচরণ শিশুদের মধ্যে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মান তৈরি করতে পারে। সন্তানদের সম্পর্ক সুন্দর রাখতে অভিভাবকরা যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে পারেন—

১. একজনকে অন্যজনের সাথে তুলনা করবেন না

‘তোমার ভাই তো এটা পারে’, ‘তোমার বোনের মতো ভালো হতে পারো না?’—এ ধরনের কথা শিশুদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে একে অপরের প্রতি ঈর্ষা ও প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। তাই প্রত্যেক সন্তানের সক্ষমতা ও ব্যক্তিত্বকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করুন। যে কাজে সে ভালো করছে, সেটির জন্য তাকে উৎসাহ দিন।

২. প্রত্যেক সন্তানের জন্য আলাদা সময় রাখুন

একাধিক সন্তান থাকলে অনেক সময় একজনের মনে হতে পারে, বাবা-মা অন্য ভাই বা বোনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই অনুভূতি থেকেই ঈর্ষা তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিদিন অল্প সময় হলেও প্রত্যেক সন্তানের সাথে আলাদাভাবে কথা বলুন। তার পড়াশোনা, বন্ধু, পছন্দ-অপছন্দ কিংবা মনের কথা জানার চেষ্টা করুন।

৩. ঝগড়া হলেই কারও পক্ষ নেবেন না

ভাই-বোনের মধ্যে ঝগড়া হলে কে আগে শুরু করেছে না জেনেই একজনকে বকা বা অন্যজনকে সমর্থন করা ঠিক নয়। দুজনের কথাই মন দিয়ে শুনুন। সমস্যা ছোট হলে তাদের নিজেদের মধ্যে সমাধানের সুযোগ দিন। এতে তারা আলোচনা করে মতবিরোধ মেটাতে শিখবে। তবে মারামারি বা গুরুতর পরিস্থিতি হলে অবশ্যই অভিভাবককে হস্তক্ষেপ করতে হবে।

৪. একজনের সামনে অন্যজনকে অপমান করবেন না

শাসন করার প্রয়োজন হলে শিশুকে একান্তে বুঝিয়ে বলা ভালো। ভাই বা বোনের সামনে তাকে অপমান, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বা কটূক্তি করলে তার মনে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। একই সাথে অন্য সন্তানও শিখতে পারে যে অপমান করে সমস্যার সমাধান করা যায়। তাই ভুলের সমালোচনা করুন, শিশুর ব্যক্তিত্বের নয়।

৫. একে অপরের পাশে দাঁড়াতে শেখান

ভাই-বোনকে ছোট ছোট কাজে একে অপরকে সাহায্য করার সুযোগ দিন। যেমন—একজনের বই খুঁজে দেওয়া, খেলনা গুছিয়ে রাখা কিংবা পড়াশোনায় সহযোগিতা করা। তবে জোর করে নয়, উৎসাহ দিয়ে এই অভ্যাস তৈরি করুন। এতে তাদের মধ্যে সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধ বাড়বে।

৬. একসাথে আনন্দের সময় কাটান

শুধু পড়াশোনা বা নিয়মকানুনের মধ্যে শিশুদের আটকে না রেখে পরিবার হিসেবে আনন্দ করার সুযোগ তৈরি করুন। একসাথে খেলাধুলা, গল্প বলা, সিনেমা দেখা, রান্নায় অংশ নেওয়া কিংবা ঘুরতে যাওয়ার মতো কাজ করতে পারেন। এসব অভিজ্ঞতা শিশুদের মধ্যে ইতিবাচক স্মৃতি তৈরি করে এবং ভাই-বোনের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হতে সাহায্য করে।

ভালো সম্পর্ক তৈরিতে বাবা-মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

ভাই-বোনের মধ্যে সব সময় মিল থাকবে—এমনটা আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। মতের অমিল বা ছোটখাটো ঝগড়া থাকতেই পারে। তবে বাবা-মা যদি সন্তানদের সমান গুরুত্ব দেন, তুলনা না করেন এবং একে অপরের প্রতি সম্মান দেখানোর পরিবেশ তৈরি করেন, তাহলে ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্কও সুন্দর হতে পারে।

সন্তানদের ঝগড়া দেখলেই শুধু শাসন না করে কেন তারা ঝগড়া করছে, কী নিয়ে কষ্ট পাচ্ছে এবং কীভাবে নিজেরা সমস্যা সমাধান করতে পারে—সেটা শেখানোই দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর।