...|...|...

ময়মনসিংহ

সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মাকে বাঁধা হলো বৈদ্যুতিক খুঁটিতে

জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ভোর রাত ৪:৫৫ | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৬:১২
Shares
সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মাকে বাঁধা হলো বৈদ্যুতিক খুঁটিতে

অভিযুক্ত শ্রাবন্তী (২০)। ছবি: টাইমস টুডে

একমাত্র শিশু সন্তানকে হত্যার অভিযোগে এক তরুণীকে বিদ্যুতের খুঁটির সাথে বেঁধে রাখার ঘটনা ঘটেছে। জামালপুরের মেলান্দহের ভাবকী গোয়ালবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার (২৮ জুন) ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, হুমায়ুন আহমেদ (২৫) এবং শ্রাবন্তী(২০) দম্পতির একমাত্র শিশু সন্তান শাওন (৯ মাস) রাতের খাবার খেয়ে ঘুমায়। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ভোরের আলোয় ঘুম ভাঙে হুমায়ুনের। তাকিয়ে দেখেন ঘরের সামনের এবং পিছনের দুটি দরজাই খোলা। বিছানায় স্ত্রী শ্রাবন্তী এবং সন্তান শাওন নেই। এরপর তাদেরকে  খুঁজাখুঁজি করতে থাকেন পরিবারের সদস্যরা।

খুঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পার্শ্ববর্তী বেপারীপাড়া কিতাবের বাড়ির পাশে শ্রাবন্তীকে দেখা যায়। আর হুমায়ুনের এক স্বজন বাড়ির পাশে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় খুঁজে পায় শিশু শাওনকে।

বিক্ষুব্ধ হুমায়ুনের স্বজনরা ওই তরুণীকে ধরে এনে বাড়ির পাশে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে রাখেন।

অভিযুক্ত তরুণী শ্রাবন্তী বলেন, রাত সাড়ে ৩টার দিকে এক ব্যক্তি ঘরের দরজায় টোকা দিলে তিনি উঠে দরজা খুলে দেন। এসময় মুখোশ পরা ব্যক্তি তার মুখে রুমাল দিয়ে অজ্ঞান করে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে ভাবকী বাজার এলাকায় নিয়ে নামিয়ে দেয়।

সিএনজি অটোরিকশা থেকে নামানোর পর কিছুটা জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে ধরে এনে বেঁধে রাখেন বলে জানান শ্রাবন্তী। তিনি বলেন, শিশু শাওনকে কে মেরেছে তা জানি না।

অভিযুক্ত তরুণী শ্রাবন্তী জামালপুর পৌর শহরের কম্পপুর মাঠপাড় এলাকার মুন্তাজ আলীর মেয়ে।

স্বামী হুমায়ুন আহমেদ বলেন, এর আগেও কয়েকবার পালিয়ে গেছিল। সে অনেক ছেলের সাথে ফোনে কথা বলে। তার বাবার বাড়ি এবার আসার সময় ওই মোবাইল রাইখা আসছে। তার দাবি- স্ত্রী শ্রাবন্তীই তার শিশুকে হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, ‘ছেলেকে খাইয়ে রাতে একসাথে ঘুমিয়ে পড়েছি। সকালে উঠে দেখি ছেলে এবং বউ ঘরে নেই। ঘরের সামনের এবং পিছনের দুইটা দরজাই খোলা। এর আগেও কয়েকবার বিচার সালিস হয়েছে। ওই আমার ছেলেকে মেরে ফেলছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য শিশুর লাশ মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

এছাড়া পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।