শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা কখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ডিজিটাল টুলস ব্যবহার করতে পারবে আর কখন পারবে না—শিক্ষক ও অভিভাবকদের এই বিভ্রান্তি দূর করতে এবার স্পষ্ট নির্দেশনা নিয়ে আসছে দুবাইয়ের শিক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দুবাইয়ের সমস্ত স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এই নতুন নীতির আওতায় আনা হবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুবাইয়ে আয়োজিত এক মিডিয়া মজলিসে এই ঘোষণা দেন নলেজ অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অথরিটির মহাপরিচালক আয়েশা মিরান।
সংবাদমাধ্যম ‘গালফ নিউজ’-এর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তি ও এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং উদ্ভাবনের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রেখে একটি স্পষ্ট নীতিমালা তৈরিতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা আশা করছি, আগামী বছরের মধ্যে আমাদের নীতি ও মানদণ্ডগুলো প্রস্তুত হয়ে যাবে।
এই পরিকল্পনাটির মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের দ্বারা ডিজিটাল টুলস এবং ডিভাইসের দায়িত্বশীল ও সুনির্দিষ্ট ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশিকা অন্তর্ভুক্ত করা।
আয়েশা মিরান জানান, কেএইচডিএ বর্তমানে এই নীতিমালার নির্দেশিকা তৈরির কাজ করছে এবং এর পেছনের মূল ভাবনাটি খুবই সহজ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিকে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের সেবায় নিয়োজিত হতে হবে এবং তাদের শিক্ষণ প্রক্রিয়াকে সমৃদ্ধ করতে হবে। কর্তৃপক্ষ কেবল প্রযুক্তির খাতিরে প্রযুক্তির ব্যবহার করতে চায় না।
তিনি বলেন, এটি একটি লক্ষ্যের মাধ্যম মাত্র, আর সেই মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীর শেখার অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করা।
তাই এই নীতিমালায় খতিয়ে দেখা হবে—কখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আইপ্যাড বা মোবাইল ফোনের মতো ডিভাইসগুলো প্রবর্তন করা উচিত, কখন সেগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়া উচিত এবং ঠিক কখন এগুলো সত্যিকার অর্থে শিক্ষার মান বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি, প্রযুক্তি গ্রহণ করার সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার বিষয়টি ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও রক্ষাকবচ বা গার্ড্রেইলগুলোও নির্ধারণ করা হবে। আয়েশা মিরান জানান, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো এআই ও প্রযুক্তির একটি বুদ্ধিদীপ্ত ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা।


