হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানে হেরে আগেই দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল পাকিস্তানের। সিরিজ জিততে বাবর আজমের দলকে জিততে হতো শেষ দুই টেস্ট। তবে লর্ডসেও ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি পাকিস্তান। দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানের বড় ব্যবধানে জিতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।
বৃষ্টিবিঘ্নিত টেস্টে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু হয় ৭ উইকেটে ১৭৭ রান নিয়ে। দিনের প্রথম ৮ ওভারের মধ্যেই ২০৮ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন ড্যান লরেন্স। পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আব্বাস ৫৭ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারে অষ্টমবারের মতো টেস্টে ফাইফার পূর্ণ করেন।
প্রথম ইনিংসে ১৮০ রানের লিড পাওয়ায় পাকিস্তানের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৮৯ রান।
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। ৭.১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ১৪ রান। আজান আওয়াইস ৬ ও আব্দুল্লাহ শফিক শূন্য রানে ফিরে যান ওলি রবিনসনের বলে। এরপর অধিনায়ক বাবর আজমকে ৬ রানে ফেরান জফরা আর্চার।
এক প্রান্তে একের পর এক সতীর্থের বিদায় দেখলেও হাল ছাড়েননি শান মাসুদ। চতুর্থ উইকেটে সৌদ শাকিলকে সঙ্গে নিয়ে ১৩৯ বলে ৯৭ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানকে কিছুটা স্বস্তি দেন তিনি। তবে ৩১তম ওভারে ২৬ রানে মাসুদকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন রবিনসন।
এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ানও রবিনসনের শিকার হন। এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়ে মাত্র ১ রানেই ফিরে যান পাকিস্তানের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। ১১৫ রানে ৫ উইকেট হারানো পাকিস্তান চা-বিরতির আগে আরও কিছুটা লড়াই করে। বিরতিতে যাওয়ার সময় তাদের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ১৪০ রান।
তবে তৃতীয় সেশনে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তান। মাত্র ৫৩ বলের মধ্যেই শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। ইমাম-উল-হক খেলতে না পারায় মোহাম্মদ আলীর উইকেটটিই পাকিস্তানের শেষ উইকেট। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৯৭ রান করেন সৌদ শাকিল।
ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন ওলি রবিনসন। ৩৫ রানে ৮ উইকেট নিয়েছেন তিনি। দুই ইনিংসেই চারটি করে উইকেট শিকার করেন ইংল্যান্ডের এই পেসার।
এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড ২৯০ রানে অলআউট হয়। জবাবে পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১০ রানেই গুটিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজ খোয়াতে হলো পাকিস্তানকে।


