...|...|...

জাতীয়

রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় যারা

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:২০ | আপডেট: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:০০
Shares
রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় যারা

গ্রাফিক্স: টাইমস টুডে

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে দেশের পরবর্তী বা ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকেই বঙ্গভবনের পরবর্তী অভিভাবক কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহলের শেষ নেই। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে, যেখানে আগামী ২০ আগস্ট ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারিত হয়েছে। যেহেতু বর্তমান সংসদে নির্দিষ্ট দলের দুই–তৃতীয়াংশ বা অপ্রতিরোধ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই কে হবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি- তা মূলত নির্ভর করছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারকদের পছন্দের ওপর। এই দৌড়ে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট ও বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে।   

রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দলের প্রতি অবিচল আনুগত্য তাকে দলীয় ও জাতীয় পর্যায়ে এক অনন্য উচ্চতায় রেখেছে। এ ছাড়া দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচনায় রয়েছে।

তবে এসবের বাইরে যিনি আলোচনার তুঙ্গে রয়েছেন, তিনি হচ্ছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিভিন্ন মহলের আলোচনায় ঘুরেফিরে তার নাম আসছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার সুপরিচিতি এবং দেশের ক্রান্তিলগ্নে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে এই সাংবিধানিক পদের জন্য এক ভিন্ন মাত্রার প্রার্থী করে তুলেছে।   

কে কার চেয়ে যেভাবে এগিয়ে

রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলীয় আস্থার ক্ষেত্রে: এই বিচারে অন্য সবার চেয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সংসদীয় রাজনীতি ও সমসাময়িক রাষ্ট্রীয় সংকট মোকাবেলায় তার যে অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা দলীয় প্রধানদের জন্য তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ ও আস্থার প্রতীক করে তোলে। সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যের বিচারে তার অবস্থান বেশ শক্ত।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে: অন্যদিকে, যদি রাষ্ট্রীয় ঐকমত্য এবং আন্তর্জাতিক ইমেজকে প্রধান মাপকাঠি ধরা হয়, তবে এগিয়ে থাকবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার বৈশ্বিক পরিচিতি ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবদানের কারণে রাষ্ট্রপতির চেয়ারে তার অবস্থান দেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভিন্ন উচ্চতা দিতে পারে। তবে দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে সাংবিধানিক ও সংসদীয় সমীকরণে তাকে এই পদে বসানো হবে কি না, তা নিয়ে নানা কৌশলগত ও রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ কাজ করছে।   

সাংবিধানিক ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার বাস্তবায়ন: দিনশেষে বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো জাতীয় সংসদে নিজ দলের বা জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা। সেই দিক থেকে বিচার করলে, যে প্রার্থীকে বর্তমান সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরাসরি সমর্থন জানাবে, তিনিই মূলত এগিয়ে থাকবেন। নাম যারই আলোচনায় আসুক না কেন, শেষ পর্যন্ত দলীয় হাইকমান্ড বা সংসদীয় দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করবে।

আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন এবং ১৬ আগস্ট বাছাইপর্বের মাধ্যমেই মূলত পরিষ্কার হয়ে যাবে যে বঙ্গভবনের পরবর্তী চাবিকাঠি কার হাতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক নানা সমীকরণ আর হিসাব-নিকাশের অবসান ঘটিয়ে ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার নাম চূড়ান্ত হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।