রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নির্ধারিত সময় পার হলেও জমা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রতিবেদনটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম।
উপাচার্য বলেন, আমরা তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি। শুনেছি প্রতিবেদনটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা হতে মধ্যরাত বা শেষ রাত হতে পারে। যদি মধ্যরাত পেরিয়ে যায়, তাহলে আগামীকাল প্রতিবেদনের সুপারিশ প্রকাশ করা হবে। এরপর অফিস খুলে তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ ঘোষণা করা হবে।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক রেজাউল করিমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম-২ বলেন, প্রতিবেদনের ড্রাফট সংশোধন এবং এর সাথে কিছু সংযুক্তির কাজ চলছে। আমরা আশা করছি, রাতের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।
এর আগে সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আশ্বাস দেন উপাচার্য। একই সাথে প্রতিবেদন পাওয়ার পর জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
সাংবাদিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হামলার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার ঘটনায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হলটির আবাসিক শিক্ষক মো. মতিউর রহমান ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসনিক কার্যক্রমে অভিজ্ঞ কাউকে প্রাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য। এ প্রক্রিয়ায় এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলেও জানান তিনি।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তাদের দাবির মধ্যে ছিল হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে মামলা করা, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া এবং রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে জড়িতদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা। যাদের পড়াশোনা শেষ হয়েছে, তাদের সনদ বাতিলের দাবিও জানান তারা। উপাচার্য এসব দাবির সাথে একমত পোষণ করেন বলে আন্দোলনকারীরা জানান।
এর আগে রোববার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় ছাত্রদলের ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী জড়িত ছিলেন। আহত সাংবাদিকদের কয়েকজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


