যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের শুরুর দিনগুলোতে ইরানের ‘ভয়াবহ’ প্রতিশোধমূলক হামলার মুখে কুয়েতের একটি প্রধান মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল মার্কিন বাহিনী।
সম্প্রতি প্রেস টিভির বরাতে সিবিএস নিউজ-এর একটি প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) নতুন প্রাপ্ত ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবৃতির বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানায়, পেন্টাগনের ‘গেট অফ দ্য এক্স’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুদ্ধের আগেই ওই ঘাঁটিতে অবস্থানরত প্রায় ৭ হাজার সেনার বেশিরভাগকেই অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা অব্যাহত থাকলে ব্যাপক হতাহতের ঘটনায় অপ্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও এবং পয়েন্ট ফাইভ-জিরো ক্যালিবারের গোলাবারুদের তীব্র সংকট থাকা সত্ত্বেও প্রায় ১০০ জন সেনা সেখানে রয়ে গিয়েছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র জানিয়েছে, তারা আমাদের ওপর অত্যন্ত মারাত্মকভাবে হামলা চালিয়েছিল। এটি ছিল ভয়াবহ। সেখানে অনেক সাহসী সেনা লড়াই করার জন্য রয়ে গিয়েছিলেন—আর দেশের বাড়িতে থাকা মানুষগুলো জানেই না আসলে কী ঘটেছিল। শেষ পর্যন্ত আমাদের ঘাঁটিটি ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে।
‘ইরানি এফ-৫ পাইলটদের হেলমেট পর্যন্ত দেখতে পেয়েছিলাম’
এদিকে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার প্রত্যক্ষদর্শী তিন মার্কিন সেনা সদস্য জানিয়েছেন, ক্যাম্প বিউরিংয়ের ওপর পরিচালিত অভিযানে ইরানের এফ-৫ যুদ্ধবিমানগুলো অংশ নিয়েছিল।
তারা আরও বলেন, তারা (এফ-৫ জেটগুলো) আমাদের এত কাছ দিয়ে উড়ে গিয়েছিল যে আমি তাদের পাইলটদের হেলমেট পর্যন্ত দেখতে পেয়েছিলাম। তারা এসে আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং তারপর দ্রুত চলে যায়।
অন্যদিকে, কুয়েতের অন্য একটি পোস্ট থেকে লজিস্টিকস অপারেশন পরিচালনা করা মার্কিন আর্মির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ক্যালিবারের গোলাবারুদ ও প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারির প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেনারা তাদের জিনিসপত্র গুছিয়ে, যতোটা সম্ভব সরঞ্জাম গাড়িতে তুলে রাতের আঁধারে কুয়েতের মরুভূমির গভীরে চলে যান এবং অগ্রবর্তী অপারেটিং বেসগুলোতে অবস্থান নেন।
এ বিষয়ে অবগত মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্যাম্প বিউরিং বা অগ্রবর্তী বেসগুলোতে কেউ নিহত না হলেও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে মরুভূমির বালুঝড়ের সময় বজ্রপাতে আহত দুই সেনাও রয়েছেন।
একটি সূত্র জানায়, ক্যাম্প বিউরিং ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত করা উচিত। কেন আমাদের সাহায্য করার জন্য কেউ এগিয়ে এল না?
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করেছিল। এর ৪০ দিন পর গত ৮ এপ্রিল ইরানের প্রতিরোধ, সফল প্রতিশোধমূলক অভিযান এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণের মুখে শত্রুপক্ষ যুদ্ধবিরতি মানতে বাধ্য হয়।
পরবর্তীতে গত জুনের ১৭ তারিখে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সাথে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করে জুলাই মাসে ইরানের ওপর দফায় দফায় মারাত্মক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটির ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ধ্বংসাত্মক হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালীকে সব ধরনের চলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।


