দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবিদাওয়া ও সরকারি নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে রাজনৈতিক ও জনঅসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। কর্তৃপক্ষের সাথে চলমান বিরোধের জেরে অঞ্চলজুড়ে অনির্দিষ্টকালের শাটডাউন ও সর্বাত্মক ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি।
এএনআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ও বাজার বন্ধ রাখার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সব ধরনের পরিবহন সেবা স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে কমিটি। দীর্ঘ চার মাস ধরে অ্যাকশন কমিটি ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে চলা অচলাবস্থার পর এই কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হলো। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে অর্থবহ সংলাপ ঝুলিয়ে রাখছে এবং পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে।
জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির মূল সদস্য উমর নাজির কাশ্মীরি অভিযোগ করেছেন, বারবার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের সাথে আন্তরিকভাবে কোনো আলোচনায় বসেননি।
তিনি বলেন, গত চার মাস ধরে তারা আমাদের সাথে মশকরা করছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো গুরুতর বৈঠক বা কার্যকর কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। তারা শুধু বলে গেছে যে নতুন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কোনো সরকার গঠিত হয়নি, বরং একজন অনির্বাচিত ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী এবং অন্য একজনকে এস্টাবলিশমেন্টের পক্ষ থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কেউ এতে খুশি নয়। আমরা সবাই জানি কোন যুক্তিতে এই পদগুলো বণ্টন করা হচ্ছে। আপনারা এই অঞ্চলে নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং জনগণের প্রকৃত রায় যাদের পাওয়ার কথা ছিল তাদের কাছে পৌঁছাতে দেননি। অথচ আপনারা একজনকে রাষ্ট্রপতি ও আরেকজনকে প্রধানমন্ত্রী বানাচ্ছেন। এই সরকার, এই চাপিয়ে দেওয়া পুতুল সরকার এখনও আমাদের সাথে দেখা করার বা বসার কোনো আন্তরিক প্রচেষ্টা চালায়নি।
এদিকে, প্রকৃত নির্বাচনী ম্যান্ডেট ছাড়াই রাজনৈতিক নেতৃত্ব বসানোর সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে কমিটি, যা এই অঞ্চলের শাসনব্যবস্থা নিয়ে জনগণের অসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সংঘর্ষ ও হতাহতের অভিযোগ
এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালে সংঘর্ষ এবং তাতে হতাহতের খবর পাওয়া পাওয়ায় উত্তেজনা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। আন্দোলনকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে অ্যাকশন কমিটি।
উমর নাজির কাশ্মীরি আরও বলেন, দাদিয়ালে প্রবেশপথে একটি অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছিল। এরপর সেখানে বলপ্রয়োগ করা হয় এবং আমাদের আরও এক তরুণ ভাই—আল্লাহ তার শাহাদাত কবুল করুন—শহীদ হয়েছেন। তিনি কর্তৃপক্ষের দমনপীড়ন ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এতে বহু তরুণ আহত হয়েছেন। এমনকি গতকালও পাঞ্জেরিতে তরুণরা আহত হয়েছেন।
জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি এবং প্রশাসনের মধ্যকার এই মুখোমুখি অবস্থান সংঘাতকে আরও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। আন্দোলন অংশ হিসেবে বাজার ও পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় প্রশাসনের ওপর আলোচনা শুরু করার এবং বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ নিরসনের চাপ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
অ্যাকশন কমিটি সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট অনির্দিষ্টকাল ধরে চলবে। ফলে পুরো অঞ্চলে চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং এই অচলাবস্থা নিরসনে কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয় নাকি সংঘাত আরও ঘনীভূত হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।


