...|...|...

তথ্যপ্রযুক্তি

রকেটের আঘাতে চাঁদের বুকে নতুন গর্ত, ছড়িয়েছে ধূলিকণা ও ধ্বংসাবশেষ

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১৪ | আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৩১
Shares
রকেটের আঘাতে চাঁদের বুকে নতুন গর্ত, ছড়িয়েছে ধূলিকণা ও ধ্বংসাবশেষ

ছবি : এ আই জেনারেটেড।

মহাকাশের নীরব প্রান্তরে থাকা চাঁদের পৃষ্ঠে নতুন এক ক্ষত তৈরি হয়েছে। স্পেসএক্সের তৈরি ফ্যালকন ৯ রকেটের পরিত্যক্ত একটি অংশ চাঁদের মাটিতে আছড়ে পড়ায় সেখানে বড় ধরনের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল গতিতে রকেটের অংশটি চাঁদের উপরিভাগে আঘাত হানে। পরে দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যারোস্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের দানুরি চন্দ্রযান ওই এলাকার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় সংঘর্ষস্থলের ছবি ধারণ করে। ছবিতে চাঁদের পৃষ্ঠে নতুন একটি গর্তের অস্তিত্ব দেখা যায়।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কেজি ওজনের এবং ৩৯ ফুট দীর্ঘ রকেটের অংশটির আঘাত ছিল প্রায় ৩ টন, যা টিএনটি বিস্ফোরণের সমান শক্তিশালী। এই সংঘর্ষে চাঁদের মাটিতে আনুমানিক ২৭ মিটার প্রশস্ত ও ৫ মিটার গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। আঘাতের তীব্রতায় আশপাশের পাথর ও ধূলিকণা ছিটকে পড়ে এবং পুরো এলাকাটি আগের তুলনায় কিছুটা অন্ধকার দেখাচ্ছে।

গবেষকেরা বলছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে চাঁদের পৃষ্ঠে মহাকাশযানের আঘাতের প্রভাব নিয়ে নতুন তথ্য পাওয়া যাবে। স্পেনের ইনস্টিটিউটো ডি অ্যাস্ট্রোফিসিকা ডি আন্দালুসিয়ার বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, রকেটের অংশ আছড়ে পড়ার সময় ধূলিকণা ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্য তারা পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছেন।

ফ্যালকন ৯ রকেটটি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। রকেটটির মূল অংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য হলেও একটি অংশ মহাকাশে পড়ে ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তা চাঁদের মাটিতে আঘাত করে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই ঘটনা গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সাধারণ উল্কাপাতের ক্ষেত্রে আকার ও ভর সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন। কিন্তু ফ্যালকন ৯ রকেটের ওজন, গঠন ও গতিপথ জানা থাকায় আঘাতের প্রভাব বিশ্লেষণ করা সহজ হয়েছে।

এর আগে ২০০৬ সালে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার স্মার্ট-১ স্যাটেলাইট এবং ২০২২ সালে চীনের একটি মহাকাশযানের অংশ চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত করে গর্ত তৈরি করেছিল।

ইউনিভার্সিটি অব কেন্টের বিজ্ঞানী মার্ক বার্চেলের মতে, এই ধরনের সংঘর্ষ শুধু গর্ত তৈরি করে না; ছড়িয়ে পড়া ধূলিকণা ও ধ্বংসাবশেষ ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানেও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এগুলো নভোচারীদের সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করা কিংবা রোবটযানের কার্যক্ষমতা নষ্ট করার মতো বিপদ সৃষ্টি করতে পারে।