দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালিতে কঠোর বিধিনিষেধ বজায় রাখলেও এবার বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নিয়েছে ইরান। কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে নির্দিষ্ট চার দেশের বাণিজ্যিক জাহাজকে নির্বিঘ্নে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে তেহরান।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সিকে (আইএসএনএ) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত-মোগাদ্দাম।
হায়াত-মোগাদ্দাম বলেন, ‘আমরা বর্তমানে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের বিধিনিষেধ থেকে অব্যাহতি দিয়েছি। এসব দেশের জাহাজ অবাধে যাতায়াত করছে এবং মার্কিনরাও সেগুলোকে বাধা দিচ্ছে না।’ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যেই এই ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, ভারত থেকে ওষুধ আমদানির সুবিধার্থে দেশটির জাহাজ চলাচলের পথ সহজ করা হয়েছে। অন্যদিকে, চীনা জাহাজকে ছাড় দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য দেশটির রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করা।
ভারতীয় ও চীনা জাহাজ থেকে ইরান ট্রানজিট ফি আদায় করলেও কাতারের জাহাজগুলোকে কোনো মাশুল ছাড়াই চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে ইরাকি জাহাজের ক্ষেত্রে ট্রানজিট ফি নেওয়া হয় কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের জ্বালানি ও বাণিজ্যের নিরাপত্তার জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৩০ শতাংশ এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) প্রায় ৯০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়েই আমদানি করে থাকে।
এছাড়া কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা এলএনজি এবং সার আমদানির ক্ষেত্রেও হরমুজ প্রণালি ভারতের জন্য একটি প্রধান বাণিজ্যপথ।


