...|...|...

বিশ্ব

স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে প্রকাশ

কুয়েতে বন্ধুকে হত্যার দায়ে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, রাত ৯:৪৫
Shares
কুয়েতে বন্ধুকে হত্যার দায়ে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রবাসীর স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে বন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে এক বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন কুয়েতের একটি ফৌজদারি আদালত। পূর্বপরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথায় এই খুনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে ফাঁসির সাজা দেন। 

বুধবার (৪ নভেম্বর) মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘গালফ নিউজ’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের দেওয়া বিবরণী থেকে জানা যায়, নিহত ব্যক্তি তার প্রবাসী বন্ধুর স্ত্রীর কিছু ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়াই ফেসবুকে আপলোড করেছিলেন। অভিযুক্ত বন্ধু বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে মুছে ফেলতে রাজি হননি। এর জের ধরেই দুই অন্তরঙ্গ বন্ধুর মধ্যে তীব্র তিক্ততা ও শত্রুতার সৃষ্টি হয়।

তদন্তে জানা যায়, এই ঘটনার পর চরম ক্ষোভ ও প্রতিশোধের আগুন জ্বলতে থাকে অভিযুক্তের মনে। একপর্যায়ে তিনি বন্ধুকে চিরতরে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন বন্ধু কর্মস্থলে অবস্থান করছেন—বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি ধারালো ছুরি নিয়ে বাইরে ওত পেতে অপেক্ষা করতে থাকেন।

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মস্থল থেকে ওই ব্যক্তি বাইরে বের হওয়া মাত্রই তার ওপর চড়াও হন অভিযুক্ত। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে উপর্যুপরি এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। আঘাতের তীব্রতায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ওই প্রবাসী।

পরে আদালতে বিচার চলাকালীন অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধের কথা অকপটে স্বীকার করেন। আদালতের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির সাথে তার দীর্ঘদিনের গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। একবার নিজ বাড়িতে বেড়াতে এসে ওই বন্ধু কোনো অনুমতি ছাড়াই তার স্ত্রীর কিছু ছবি গোপনে তুলে নেন এবং পরবর্তীতে তা ফেসবুকে পোস্ট করেন।

অভিযুক্তের দাবি, ওই ছবিগুলোতে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য আসতে শুরু করায় তিনি বন্ধুকে অনুরোধ করেছিলেন ছবিগুলো অবিলম্বে ডিলিট করে দিতে। কিন্তু বন্ধু তার কথায় কান না দিয়ে উল্টো আরও বেশি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। এর ফলে তার পারিবারিক জীবনে অশান্তি শুরু হয় এবং স্ত্রীর  সাথে তার মারাত্মক কলহ তৈরি হয়। এই চরম পারিবারিক অবমাননা ও ক্ষোভ থেকেই তিনি বন্ধুকে হত্যার পথ বেছে নেন বলে জানান।

উভয় পক্ষের আইনি যুক্তি, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং পারিপার্শ্বিক বিষয়াদি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করার পর কুয়েতের আদালত অভিযুক্তকে পরিকল্পিত হত্যার দায়ে সরাসরি দোষী সাব্যস্ত করেন এবং মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছর সৌদি আরবে পৃথক অপরাধে দণ্ডিত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল, যা নিয়ে দেশের অভিবাসী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রম কল্যাণ উইং থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি গোপন নথিতে জানা গিয়েছিল, ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে তারা কারাগারে আটক ছিলেন। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো পূর্বানুমতি বা আনুষ্ঠানিক তথ্য বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানায়নি, এমনকি কার্যকরের পরও বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল।