উত্তর ফ্রান্স থেকে ছোট ডিঙিনৌকায় চড়ে যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করা প্রায় প্রতিটি নারীই যাত্রাপথে মানবপাচারকারীদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হন বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘দ্য রেস্ট ইজ পলিটিকস’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন তিনি।
সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রী ররি স্টুয়ার্ট এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের উপদেষ্টা অ্যালিস্টেয়ার ক্যাম্পবেলের সাথে আলাপকালে শাবানা মাহমুদ বলেন, যতদিন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে কারা প্রবেশ করবে সেই নিয়ন্ত্রণ অপরাধী চক্রের হাতে থাকবে, ততদিন পর্যন্ত অধিকাংশ আশ্রয়প্রার্থীই এমন নির্মম যৌন নিপীড়নের শিকার হতে বাধ্য হবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা এই সীমান্তের নিয়ন্ত্রণে নেই। উত্তর ফ্রান্সে যারা জড়ো হন এবং ডিঙিনৌকায় ওঠার অপেক্ষা করেন, তাদের নিয়ন্ত্রণ করে মানবপাচারকারী অপরাধী চক্র।
এ সময় তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, উত্তর ফ্রান্সে অবস্থান করা প্রায় প্রতিটি নারীই এই ভয়ংকর যাত্রাপথে ধর্ষণের শিকার হন এবং কিছু পুরুষও যৌন নির্যাতন ও নানা হুমকির মুখে পড়েন।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্যে প্রবেশ, আশ্রয় গ্রহণ এবং সমাজের মূল স্রোতে মিশে যাওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কোনোভাবেই মানবপাচারকারী অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে চলতে পারে না।
এ ছাড়া পডকাস্টে উগ্র ডানপন্থি বিক্ষোভকারীদের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, মুখ ঢাকা বা চাদর পরিহিত এসব উগ্রপন্থী দল ক্ষমতায় এলে তাকে হত্যা করতে পারে কিংবা দেশ থেকে বের করে দিতে পারে। তিনি মুসলিম হওয়ায় ওই গোষ্ঠীগুলো তাকে প্রকৃত ব্রিটিশ হিসেবে গণ্য করে না এবং তার প্রতি তীব্র ঘৃণা পোষণ করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে শাবানা মাহমুদ নিজেকে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের অংশ হিসেবে দাবি করেন। তবে ‘ফিলিস্তিন অ্যাকশন’ নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদকারী কর্মীদের গ্রেফতারের ঘটনায় নিজের তীব্র অস্বস্তির কথা জানান তিনি।
উল্লেখ্য, সোমবার লিভারপুলে লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলন চলাকালে নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থনে প্রতীক বা সামগ্রী বহনের সন্দেহে মার্সিসাইড পুলিশ ৮২ জনকে গ্রেফতার করে। শাবানা মাহমুদ স্বীকার করেন যে এই পরিস্থিতি তার ব্যক্তিগত মতের সাথে সাংঘর্ষিক ও অস্বস্তিকর, তবুও সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখার পক্ষেই অবস্থান নিতে হচ্ছে।
এদিকে, গত রবিবার ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে দক্ষিণ উপকূলের দিকে একটি অভিবাসীবাহী ছোট নৌকা এগিয়ে আসতে দেখা যায়, যেটিকে ফরাসি কোস্টগার্ড ও উদ্ধারকারী জাহাজগুলো অনুসরণ করছিল। ধারণা করা হচ্ছে, নৌকাটি ফ্রান্সের নরম্যান্ডির ইউটাহ বিচ এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল।
মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিক্রিয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে যৌন সহিংসতার এমন ভয়াবহতার সত্যতা প্রকাশকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ‘রিফিউজি কাউন্সিল’-এর পরিচালক ইমরান হুসেইন। তবে একই সাথে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন পথ বন্ধ করে দেওয়ার সরকারি নীতির কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
তার মতে, যুদ্ধ ও নিপীড়নের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা নারী ও শিশুরা নিজ দেশ এবং নিরাপত্তার খোঁজে পাড়ি জমানো বিপজ্জনক যাত্রাপথ—উভয় জায়গাতেই চরম যৌন সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকেন। নারীদের সুরক্ষার স্বার্থে নিরাপদ ও বৈধ পথ সংকুচিত না করে বরং বাড়ানো উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।


