যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটি থেকে বি-১ বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি কেবল ‘অতিরিক্ত সতর্কতার’ অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গত সপ্তাহে ওই ঘাঁটিতে একটি সম্ভাব্য ইরানি ষড়যন্ত্রের কথা সামনে আসার পরই এই পদক্ষেণ নেওয়া হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) তিনি এই কথা জানান। খবর রয়টার্সের।
মার্কিন বোমারু বিমানগুলোর জন্য ইউরোপের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্যের ‘আরএএফ ফেয়ারফোর্ড’-এ বিমানগুলো মোতায়েন ছিল। সম্প্রতি ইরানের ওপর চালানো মার্কিন হামলায় বিমানগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল। গত সপ্তাহে ওই ঘাঁটিটির কাছাকাছি এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়।
উল্লেখ্য, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড এর আগে এই ঘাঁটিটিকে একটি ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ বলে ঘোষণা করেছিল।
আলাস্কার উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন ত্যাগের সময় জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা সেখানে যা দেখেছেন, তা মূলত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের অতিরিক্ত সতর্কতার একটি অংশ, যার লক্ষ্য আমাদের কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, আমরা বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথেই মনে করি যে, ইরান গত ৪৯ বছর ধরে যা করে আসছে—অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া—এবারও ঠিক সেটাই করার চেষ্টা করছে। তাই আমরা অত্যন্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং এ বিষয়ে এর বেশি কিছু বলতে চাই না।
এর আগে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন যে, হঠাৎ করে বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার সাথে ওই সম্ভাব্য ইরানি ষড়যন্ত্রের কোনো প্রত্যক্ষ যোগসূত্র নেই। পেন্টাগন সব সময়ই তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পদের পুনর্বিন্যাস করে থাকে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, সোমবার এক ন্যাটো সামরিক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে অবস্থিত মার্কিন সম্পদগুলোর জন্য ইরান এখনো তীব্র হুমকি সৃষ্টি করে চলেছে বলে বিশ্বাস করা হয়।
যদিও এই ঘটনার অনেক দিকই এখনও রহস্যাবৃত, তবুও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম মন্তব্য করেছেন যে, এই ষড়যন্ত্রের পেছনে ইরানের ইন্ধন থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
অন্যদিকে, এসব ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ লিখেছেন, আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করা কথিত ‘সন্ত্রাসী’দের ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাটিই সবকিছু পরিষ্কার করে দেয়। আপনারা ভুল জায়গায় নজর দিচ্ছেন।


