ইউনিয়ন পরিষদ দেশের সব নাগরিকের জন্ম সনদ, মৃত্যু সনদ, নাগরিক সনদ, ওরিশিয়ান সনদ এমনকি প্রত্যয়ন পত্র দিয়ে থাকে। তথ্য বলছে, প্রত্যয়নে স্ব স্ব ওয়ার্ডের মেম্বাররা শনাক্তকরী হয়ে থাকেন। কিন্তু বহুলী ইউনিয়নে এই নিয়ম মানা হয়নি।
যদিও সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল হক জানিয়েছেন আমি রেজাউল মেম্বারের শনাক্তেই প্রত্যয়নপত্র দিয়েছি। অথচ সাবেক মেম্বার রেজাউল বলছে, আমি শনাক্ত দেইনি।
তথ্য বলছে, বহুলী ইউনিয়ন পরিষদের ওরিশিয়ানের প্রত্যয়ন পত্র নিয়ে আব্দুর রশিদ নামে এক স্কুল শিক্ষক দশ বছর ধরে সরকারি চাকরি করছে। যদিও শিক্ষক আব্দুর রশিদের বাড়ি জামতৈল ইউনিয়নে।
এবিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি রেজাউল মেম্বারের শনাক্তেই প্রত্যয়ন পত্র দিয়েছি।
সনদ বিষয়ে সাবেক মেম্বার রেজাউল শনাক্তের কথা অস্বীকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, এসময় এনামুল আরও জানান, আপনি যা খুশি করেন, আপনি মামলা করলে করেন।
এবিষয়ে সাবেক মেম্বার রেজাউল জানান, আমি শনাক্ত দেইনি। আমার কাছে এই পরিবার এসেছিল। এদের বাড়ি এই এলাকায় না। এরা অত্যধিক ধূত পরিবার।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়ন থেকে ২০১৪ সালে সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল হকের স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যয়ন পত্র নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিয়েছে শিক্ষক আব্দুর রশিদ। এসময় খালু মুক্তিযোদ্ধা কাশেম আলীকে পিতা বানিয়ে চাকরি নিয়েছেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।
এবিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা কাশেম আলীর কন্যা আমেনা খাতুন জানান, আমি পিতা কাশেম আলীর একমাত্র কন্যা। আমার আর কোনো ভাই বোন নাই। কতিপয় দুষ্কৃতকারীদের সহায়তায় তারা এই সনদ নিয়েছে। আমি এদের শাস্তি চাই। এসময় তার পিতার ওরিশিয়ান সনদ কপি অনুসন্ধানকারী টিমের হাতে তুলে দেন।
এবিষয়ে স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান, এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, কীভাবে এই রকম সনদ চেয়ারম্যান এনামুল সাহেব দিলো? এটা অনুসন্ধান করা দরকার, সনদে বড় অর্থের বানিজ্য হয়েছে কিনা তাও তদন্ত করা দরকার। এভাবে সনদ দিয়ে যে দাপট সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল সাহেব দেখাচ্ছে তা সমাজের জন্য চরম অশনিসংকেত। এসময় তারা আরও জানান, এখনই এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।


