মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর একাধিক বিমান হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। রাখাইন ও কারেন্নি রাজ্যের চারটি শহরে আবাসিক এলাকা এবং একটি মাতৃসদন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২ নভেম্বর) স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মিয়ানমারভিত্তিক স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ইরাবতী। সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, রোববার এসব হামলা চালায় দেশটির সামরিক বাহিনী।
হামলার শিকার শহরগুলো হলো রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও, ম্রাউক-ইউ, পাউকতাও ও কিয়াউকফিউ। এসব এলাকায় আবাসিক স্থাপনার পাশাপাশি একটি মাতৃসদনেও বিমান হামলা চালানো হয়। এতে রাখাইন রাজ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন।
এর আগে শনিবার কারেন্নি রাজ্যের পূর্বাঞ্চলীয় লইকাও শহরের একটি স্কুলে বিমান হামলা চালায় সামরিক বাহিনী। ছুটির দিন হওয়ায় ওই স্কুলে শিশুদের জন্য পুষ্টিবিষয়ক একটি কর্মসূচি চলছিল। হামলায় তিন শিশু নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়।
মিয়ানমারে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে দেশটিতে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অঞ্চলে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে একাধিক জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন ও প্রতিরোধ বাহিনী।
এদিকে, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে এই মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী বৈষম্য, নিপীড়ন ও সহিংসতার শিকার হয়ে আসছে। সামরিক অভিযান ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা গত কয়েক দশকে মিয়ানমার ছেড়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।


