...|...|...

বিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে কীসের প্রস্তুতি, নতুন হামলার ছক নাকি যুদ্ধের মহড়া?

যোবায়ের আহমদ
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:৫৪
Shares
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে কীসের প্রস্তুতি, নতুন হামলার ছক নাকি যুদ্ধের মহড়া?

ছবি: এআই জেনারেটেড।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে সামরিক উড়োজাহাজের অস্বাভাবিক তৎপরতা নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা জোরালো করছে। একদিকে ইসরায়েলের বিমানঘাঁটিতে সারি বেঁধে অবস্থান করছে মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান। অন্যদিকে পশ্চিম এশিয়ার আকাশে শনাক্ত হচ্ছে একের পর এক সামরিক পরিবহন, গোয়েন্দা নজরদারি ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ। সব মিলিয়ে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা কি কেবল প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি, নাকি এর আড়ালে তৈরি হচ্ছে নতুন কোনো অভিযানের ক্ষেত্র?

সামরিক উড়োজাহাজের চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ইন্টেলস্কাইয়ের (IntelSky) সামরিক ওএসআইএনটি ডেটাবেজের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর পশ্চিম এশিয়ার আকাশে ৭৩টি সামরিক ও কৌশলগত উড়োজাহাজের চলাচল শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ছিল পাঁচটি সামরিক পরিবহন বিমান, ২৯টি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, ১০টি গোয়েন্দা বিমান এবং অঞ্চলটির অভ্যন্তরে চলাচলকারী আরও ২৭টি সামরিক পরিবহন বিমান।

তবে ইন্টেলস্কাইয়ের হালনাগাদ ডেটাবেজে ১ নভেম্বরের শনাক্ত উড়োজাহাজের সংখ্যা ১২৯ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। এটি বিস্তৃত শনাক্তকরণ তালিকার হিসাব; আগের ৭৩টির শ্রেণিভিত্তিক পরিসংখ্যানের সঙ্গে সরাসরি তুলনীয় নয়। তা ছাড়া উন্মুক্ত ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ে সব সামরিক উড়োজাহাজের অবস্থান ও চলাচল দৃশ্যমান হয় না। ফলে এসব সংখ্যা দিয়ে পুরো অঞ্চলের সামরিক বিমান তৎপরতার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়।

তবে সংখ্যার চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে দক্ষিণ ইসরায়েলের রামন বিমানবন্দরের একটি দৃশ্য।

রামন বিমানবন্দরে ট্যাংকার বিমানের দীর্ঘ সারি

গত ১ নভেম্বর প্রকাশিত ছবিতে দক্ষিণ ইসরায়েলের রামন বিমানবন্দরে মার্কিন বিমানবাহিনীর একাধিক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানকে সারিবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। এগুলোর বেশিরভাগই কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কা (KC-135 Stratotanker)।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৮০টির বেশি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান মোতায়েন রয়েছে। অন্যদিকে ব্রিটিশ বিমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা মিলিটারি এয়ার ট্র্যাকিং অ্যালায়েন্স (Military Air Tracking Alliance) -এর স্যাটেলাইট তথ্যের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলের তিনটি বিমানবন্দরে অন্তত ৪৭টি মার্কিন ট্যাংকার বিমানের উপস্থিতির কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রামনে ২৫টি, বেন গুরিয়নে ১৮টি এবং ওভদায় চারটি।

এখানে দুটি হিসাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ৮০টির বেশি বিমানের দাবি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মোতায়েনসংক্রান্ত, আর ৪৭টির হিসাব ইসরায়েলের তিনটি বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে। উভয় সংখ্যাই সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের দাবি; এগুলোকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত সরকারি পরিসংখ্যান হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

তবু ইসরায়েলের বিমানঘাঁটিতে এত বিপুলসংখ্যক ট্যাংকার বিমানের উপস্থিতি সামরিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো।

জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

আধুনিক বিমানযুদ্ধে কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কা এবং কেসি-৪৬ পেগাসাস (KC-46 Pegasus) -এর মতো জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর মাধ্যমে আকাশে অবস্থানরত যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য উপযুক্ত সামরিক উড়োজাহাজকে মাঝপথেই জ্বালানি দেওয়া যায়।

এর ফলে যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি নিতে বারবার ঘাঁটিতে ফিরে আসতে হয় না। দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান, দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান এবং একাধিক পর্যায়ে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ হয়।

ইরানের ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও সামরিক স্থাপনাগুলোর অবস্থান বিবেচনায় এই সক্ষমতার গুরুত্ব আরও বেশি। দেশটির গভীরে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা কিংবা পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে দীর্ঘপাল্লার অভিযান পরিচালনায় আকাশে জ্বালানি সরবরাহ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সে সময় B-2 স্টেলথ বোমারু বিমানগুলো দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে অভিযান পরিচালনা করে। এ ধরনের অভিযানে একাধিক ট্যাংকার বিমানের সহায়তা নেওয়া হয়েছিল। মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের (CRS) প্রতিবেদনেও ওই অভিযানে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্ব উঠে এসেছে।

অর্থাৎ, মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক ট্যাংকার বিমানের উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘপাল্লার বিমান অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ায়। যদিও শুধু এই উপস্থিতি থেকেই নতুন হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

C-17 পরিবহন বিমান কীসের ইঙ্গিত দিচ্ছে?

সামরিক তৎপরতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পরিবহন বিমানের চলাচল। যুক্তরাষ্ট্রের সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার থ্রি (C-17A Globemaster III) এবং সি-৫এম সুপার গ্যালাক্সি (C-5M Super Galaxy) মূলত সেনাসদস্য, ভারী অস্ত্র, গোলাবারুদ, সামরিক যান ও অন্যান্য সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত হয়।

বিশেষ করে C-17 একবারে প্রায় ৭৭ টন পর্যন্ত মালামাল বহন করতে পারে। দুর্গম এলাকা ও তুলনামূলক ছোট রানওয়েতে অবতরণের সক্ষমতা থাকায় যুদ্ধকালীন রসদ সরবরাহে বিমানটি অত্যন্ত কার্যকর।

কোনো অঞ্চলে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হলে পরিবহন বিমানের মাধ্যমে সেখানে অতিরিক্ত সেনাসদস্য, সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানো হতে পারে। ফলে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের পাশাপাশি C-17-এর চলাচলও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

তবে নির্দিষ্ট বিমানে কী সরঞ্জাম পরিবহন করা হচ্ছে, তা নিশ্চিত না হয়ে এসব উড়োজাহাজকে আক্রমণাত্মক অস্ত্র কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বহনকারী হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না।

গোয়েন্দা বিমানের তৎপরতা কি হামলার পূর্বাভাস?

পশ্চিম এশিয়ার আকাশে ১০টি গোয়েন্দা বিমানের চলাচল শনাক্ত হওয়ার তথ্যও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। আধুনিক যুদ্ধে প্রতিপক্ষের রাডার, সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র ও সামরিক ঘাঁটির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের আরসি-১৩৫ডব্লিউ রিভেট জয়েন্ট (RC-135W Rivet Joint) -এর মতো গোয়েন্দা বিমান বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক সংকেত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। এসব তথ্যের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের সামরিক তৎপরতা, যোগাযোগের ধরন এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

বড় ধরনের সামরিক অভিযানের আগে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা একটি পরিচিত কৌশল। তবে গোয়েন্দা বিমানের উপস্থিতি মানেই হামলার লক্ষ্যবস্তু চূড়ান্ত হয়েছে কিংবা অভিযান শুরুর নির্দেশ এসেছে- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

দোহায় কূটনীতি, আকাশে সামরিক শক্তির প্রদর্শন

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সামরিক তৎপরতা বাড়লেও কূটনৈতিক আলোচনা থেমে নেই। রয়টার্সের ১ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের আট মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কাতারের মধ্যস্থতায় দোহায় টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোচনা চলছিল।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, আলোচনা এগোচ্ছে। একইসাথে তেহরান কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা- দুই পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো নতুন হামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি। ওয়াশিংটন কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিতে চায়।

তবে আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন হামলা না চালানোর অবস্থান নিলেও পরবর্তী সময়ে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি ট্রাম্প।

অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তেহরানের অবস্থানও স্পষ্ট- নতুন করে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানা হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরানের পাল্টা জবাব কী হতে পারে?

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করলে ইরানের সামনে কয়েকটি সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপের পথ খোলা থাকতে পারে।

প্রথমত, ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে পারে তেহরান। বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। এসব স্থাপনায় হামলা হলে সংঘাত দ্রুত আঞ্চলিক রূপ নিতে পারে।

দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সামরিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে ইরান। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সেখানে জাহাজ চলাচলে বাধা, নৌ-মাইন স্থাপন, ড্রোন হামলা কিংবা জাহাজ আটকানোর মতো পদক্ষেপ নিলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

তৃতীয়ত, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও সংঘাতে সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ইয়েমেনের হুতিদের তৎপরতা বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে একাধিক ফ্রন্টে সামরিক চাপ মোকাবিলা করতে হতে পারে।

এ ছাড়া সাইবার হামলার মাধ্যমেও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক, আর্থিক এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা হতে পারে।

তবে ইরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা কতটা অক্ষত রয়েছে, সেটিও বড় প্রশ্ন। চলমান সংঘাতে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র, নৌ ও সামরিক অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তেহরান কতটা ব্যাপক ও সমন্বিত পাল্টা হামলা চালাতে পারবে, তা নির্ভর করবে তাদের অবশিষ্ট সামরিক সক্ষমতার ওপর।

তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে কীসের প্রস্তুতি?

সবকিছু মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে তিন ধরনের সামরিক তৎপরতা বিশেষভাবে চোখে পড়ছে- আকাশে জ্বালানি সরবরাহ, সামরিক রসদ পরিবহন এবং গোয়েন্দা নজরদারি। রামন বিমানবন্দরে ট্যাংকার বিমানের দীর্ঘ সারি এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ৮০টির বেশি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান মোতায়েনের দাবি পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

কিন্তু এসব তৎপরতার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে দীর্ঘপাল্লার বিমান অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি, নাকি সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা হামলা ঠেকাতে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করা? অথবা দোহায় চলমান আলোচনায় তেহরানের ওপর চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেই কি সামরিক শক্তির এই প্রদর্শন?

সম্ভাবনাগুলোর কোনোটিই এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ, সামরিক প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক আলোচনা অনেক সময় একই কৌশলের দুটি পরিপূরক অংশ হয়ে ওঠে। একদিকে আলোচনার টেবিলে সমঝোতার চেষ্টা চলে, অন্যদিকে সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে প্রতিপক্ষকে কঠিন বার্তা দেওয়া হয়।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, মধ্যপ্রাচ্যে প্রয়োজনে বড় ধরনের বিমান অভিযান পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের লজিস্টিক সক্ষমতা জোরদার হওয়ার বেশ কিছু ইঙ্গিত দৃশ্যমান। এখন নজর থাকবে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন, দোহার আলোচনার অগ্রগতি এবং ইরানের সামরিক প্রতিক্রিয়ার দিকে।

এসবের যেকোনো একটির পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে নতুন মোড় দিতে পারে। আর তখন আজকের আকাশে উড়ে বেড়ানো এই সামরিক উড়োজাহাজগুলো কেবল শক্তি প্রদর্শনের প্রতীক থাকবে, নাকি নতুন কোনো যুদ্ধের প্রথম অধ্যায়ের অংশ হয়ে উঠবে- সেটিই হবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।