মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত লাগার ঝুঁকি কমাতে চিকিৎসকরা কয়েকটি সহজ কিন্তু কার্যকর অভ্যাসের কথা বলেন। বিশেষজ্ঞ নিউরোসার্জনদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দৈনন্দিন জীবনে সামান্য কিছু সতর্কতা মেনে চললেই মাথার গুরুতর জখম অনেকাংশে প্রতিরোধযোগ্য।
হেলমেট পরার গুরুত্ব
ই-স্কুটার চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার মস্তিষ্ক রক্ষার অন্যতম সহজ ও কার্যকর উপায় বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। তাদের অভিজ্ঞতায়, হেলমেট ছাড়া স্কুটার চালানো ব্যক্তিরা প্রায়ই গুরুতর মাথার আঘাত নিয়ে হাসপাতালে আসেন- এই দৃশ্য তারা নিয়মিতই দেখে থাকেন।
অ্যালকোহল ও উচ্চ রক্তচাপ থেকে সতর্কতা
হেলমেট ছাড়াও চিকিৎসকরা মদ্যপান পরিহার এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর জোর দেন। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের কারণে অনেক রোগীর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে দেখা যায় বলে তারা জানান।
উচ্চ রক্তচাপকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রায়ই ‘নীরব ঘাতক’ আখ্যা দেওয়া হয়, কারণ এর স্পষ্ট কোনো লক্ষণ না থাকায় রোগী নিজেও বহুদিন এ বিষয়ে অজ্ঞাত থাকতে পারেন।
এ কারণে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা এবং তা স্বাভাবিক সীমার মধ্যে রাখা জরুরি। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণসহ নানা জটিলতার আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।
মস্তিষ্কের আঘাতের সুদূরপ্রসারী প্রভাব
চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, নির্দিষ্ট ধরনের মস্তিষ্কের ক্ষতি একজন মানুষের স্মৃতিশক্তি সম্পূর্ণভাবে কেড়ে নিতে পারে- এমনকি নতুন কোনো স্মৃতি ধরে রাখার সক্ষমতাও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পুরোনো স্মৃতি বিলুপ্ত হওয়ার পাশাপাশি রোগীর মূল ব্যক্তিত্বেও স্থায়ী পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
পরিবারের সাথে আগাম আলোচনার প্রয়োজনীয়তা
শুধু আঘাত এড়ানোই নয়, আকস্মিক ও জীবন-সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে আগে থেকেই কথা বলে রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
জীবন যে কতটা অনিশ্চিত ও ভঙ্গুর, তা মনে করিয়ে দিয়ে তারা বলেন- কোনো ব্যক্তি যদি নিজে সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম অবস্থায় পড়েন, তাহলে তার ইচ্ছা বা পছন্দ আগে থেকে জানা না থাকলে চিকিৎসক বা অপরিচিত কারও পক্ষে জরুরি মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
আগেভাগে এমন আলোচনা সেরে রাখলে সংকটকালে পরিবার ও চিকিৎসক দুই পক্ষের জন্যই রোগীর প্রকৃত ইচ্ছা বোঝা সহজ হয়।
শেষকথা
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ তিনটি মূল দিকে কেন্দ্রীভূত- শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকি (বিশেষত রক্তচাপ) নিয়মিত নিয়ন্ত্রণে রাখা, মাথার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা (যেমন হেলমেট ব্যবহার) মেনে চলা, এবং জরুরি চিকিৎসা-সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবারের সাথে আগে থেকে খোলামেলা আলোচনা করা।
এই তিনটি অভ্যাস একসাথে মেনে চললে সুস্থ ও নিরাপদ জীবনযাপনের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

