...|...|...

লাইফস্টাইল

মস্তিষ্ক সতেজ রাখতে মেনে চলুন এই ৫ অভ্যাস

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪৮ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৭:৫৪
Shares
মস্তিষ্ক সতেজ রাখতে মেনে চলুন এই ৫ অভ্যাস

ছবি: এআই জেনারেটেড

বয়স তো থেমে রাখা যায় না, কিন্তু মস্তিষ্ককে সতেজ আর কর্মক্ষম রাখা যায় ঠিকই। আজকের চিকিৎসাবিজ্ঞান শুধু আয়ু বাড়ানো নিয়েই ভাবছে না, বরং জোর দিচ্ছে ‘হেলথস্প্যান’-এর ওপর-অর্থাৎ, জীবনের যতটুকু সময় আমরা পাই, তার কতটুকু যেন সুস্থভাবে, নিজের বুদ্ধিবিবেচনা নিয়ে বাঁচতে পারি। আর এই সুস্থতার সবচেয়ে বড় শর্তই হলো মস্তিষ্ক ভালো রাখা।

মজার ব্যাপার হলো, স্মৃতিভ্রংশ বা আলঝেইমার’সের মতো সমস্যা হঠাৎ করে আসে না। এর পেছনে কাজ করে বছরের পর বছরের অনিয়মিত জীবনযাত্রা।

তাই লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই যদি কিছু ছোট ছোট অভ্যাস গড়ে তোলা যায়, তাহলে বার্ধক্যেও মন থাকতে পারে সজাগ, স্বচ্ছ আর তীক্ষ্ণ। চিকিৎসকরা এমনই পাঁচটি অভ্যাসের কথা বলছেন, যেগুলো নিয়মিত মেনে চললে মস্তিষ্ক দীর্ঘদিন সতেজ ও তরুণ থাকতে পারে।

১. ঘুম: মস্তিষ্কের নিজস্ব পরিষ্কারযন্ত্র

আমরা প্রায়ই ঘুমকে বিলাসিতা মনে করি, অথচ এটাই মস্তিষ্কের সবচেয়ে জরুরি রক্ষাকবচ। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক নিজে থেকেই একধরনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চালায়-দিনভর জমে থাকা বিপাকীয় বর্জ্য আর ক্ষতিকর প্রোটিন সরিয়ে ফেলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অন্তত সাত ঘণ্টা না ঘুমালে এই ক্ষতিকর উপাদানগুলো জমতে শুরু করে, যার প্রভাব পড়ে চিন্তাশক্তি আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায়। তাই রাতের ঘুমকে অবহেলা করা মানে মস্তিষ্কের প্রতিদিনের যত্নই এড়িয়ে যাওয়া।

২. খাবার: খাবারের পাতেই লুকিয়ে মস্তিষ্কের ভবিষ্যৎ

আমরা কী খাচ্ছি, তার প্রভাব শুধু শরীরে নয়, পড়ে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষেও। ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভ্যাস-অর্থাৎ ফলমূল, শাকসবজি, বাদাম-বীজ, অলিভ অয়েল, ডাল, ডিম আর ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ-এই ধরনের খাবার মস্তিষ্কের জন্য দারুণ উপকারী বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

বিপরীতে, কৃত্রিম চিনি, বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবার আর অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার মস্তিষ্কের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।

গবেষণাও এই কথারই সমর্থন দেয়-এমন খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে বার্ধক্যে ডিমেনশিয়া আর স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে, ফলে মস্তিষ্কের রক্তনালীগুলোও সুরক্ষিত থাকে।

৩.ব্যায়াম: শরীর সচল রাখলে মনও থাকে সচল

শুনতে সাধারণ মনে হলেও, নিয়মিত শরীরচর্চা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে পারে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা হাইকিংয়ের মতো হালকা কার্ডিও ব্যায়াম মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, প্রদাহ কমায় এবং নতুন কিছু শেখার সক্ষমতাকে সজাগ রাখে।

শুধু কার্ডিও নয়, সপ্তাহে দুদিন হালকা ওজন তোলার মতো শক্তি বাড়ানোর ব্যায়ামও উপকারী। এতে বয়সের সাথে মস্তিষ্কের কোষ সংকুচিত হওয়ার প্রবণতা কমে এবং আলঝেইমার’সের অগ্রগতি ধীর হয়ে আসে বলে জানাচ্ছে গবেষণা।

৪.  সঙ্গ: একাকিত্ব নয়, চাই মানুষের সঙ্গ

আমরা প্রায়ই ভুলে যাই, একাকিত্ব শুধু মনখারাপের কারণ নয়-এটা মস্তিষ্কের জন্যও ক্ষতিকর। বন্ধুবান্ধবের সাথে সময় কাটানো, আড্ডা দেওয়া বা সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা মস্তিষ্কের সহনশীলতা বা মানসিক ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।

গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রায় অর্ধেকেরও বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি একাকিত্বের প্রভাবে মস্তিষ্কের আকারও ধীরে ধীরে সংকুচিত হতে থাকে। তাই সম্পর্ক আর সংযোগ ধরে রাখাটা শুধু মানসিক প্রশান্তির জন্য নয়, মস্তিষ্কের সুরক্ষার জন্যও জরুরি।

৫. ব্রেইন গেমস: মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখুন

শরীরের মতো মস্তিষ্কেরও দরকার নিয়মিত চর্চা। ক্রসওয়ার্ড, শব্দছক বা জিগস পাজলের মতো ধাঁধায় সময় দিলে মস্তিষ্ক নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, যা তার কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা এমন কোনো কার্যক্রমে সময় দেওয়া উচিত।

গবেষণা বলছে, সাধারণ কম্পিউটার গেমের চেয়ে এই ধরনের ধাঁধা মেলানোর অনুশীলন মস্তিষ্কের ভাষাগত দক্ষতা, দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি আর প্যাটার্ন চেনার ক্ষমতাকে অনেক বেশি সক্রিয় রাখে।

স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়াকে অনেকেই বয়সের অনিবার্য পরিণতি ভেবে মেনে নেন, কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। এটি মূলত আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রারই একটা প্রতিফলন।

পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা, মানুষের সঙ্গ আর মস্তিষ্কের নিয়মিত চর্চা-এই পাঁচটি সাধারণ অভ্যাসই হতে পারে দীর্ঘদিন মন সতেজ আর তরুণ রাখার আসল রহস্য। বয়স বাড়বে, কিন্তু মনটা থেকে যাক চিরসজীব।