...|...|...

প্রবাস

বাংলাদেশি গবেষকের স্টার্টআপ কিনে নিল অ্যাপল

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:৩৭
Shares
বাংলাদেশি গবেষকের স্টার্টআপ কিনে নিল অ্যাপল

মস্তিষ্কের কার্যকলাপ শনাক্ত করতে সক্ষম নন-ইনভেসিভ (শরীরে কোনো যন্ত্র প্রবেশ না করিয়ে) সেন্সর প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক স্টার্টআপ ‘সোনেরা’ কিনে নিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। এ বছরের শুরুতে অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, গত মে মাসে এটি সম্পন্ন হয়।

সোনেরার সহপ্রতিষ্ঠাতাদের একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান গবেষক সায়েফ সালাহউদ্দিন। প্রযুক্তিটি ভবিষ্যতে অ্যাপলের পরিধানযোগ্য ডিভাইস ও চিন্তার মাধ্যমে যন্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তিতে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

নিশিতা ডেকা ও ডমিনিক লাবানোস্কি ২০১৮ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলিতে শিক্ষার্থী থাকাকালে স্টার্টআপটি প্রতিষ্ঠা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির অধ্যাপক সায়েফ সালাহউদ্দিন ছিলেন লাবানোস্কির পিএইচডি গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক। পরে তিনজনই কোম্পানিটির সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে যুক্ত হন।

প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল ‘সোনেরা ম্যাগনেটিকস’। ২০২৩ সালে স্টার্টআপটি ১ কোটি ১০ লাখ ডলার অর্থায়ন পায়।

সোনেরার প্রথম পণ্য ছিল পেশির কার্যকলাপ শনাক্ত করার জন্য তৈরি ‘এস১’ চিপ। কোম্পানিটির দাবি, একই প্রযুক্তি মস্তিষ্কের চৌম্বকীয় কার্যকলাপ শনাক্ত করতে পারে। এ প্রযুক্তি কৃত্রিম অঙ্গ নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তা পর্যায়ের পরিধানযোগ্য ডিভাইসেও ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

সায়েফ সালাহউদ্দিন ২০০৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। চৌম্বকীয় সেন্সর ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি নিয়ে তার গবেষণার সঙ্গে সোনেরার প্রযুক্তির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাকে ‘প্রেসিডেনশিয়াল আর্লি ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ড ফর সায়েন্টিস্টস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স’ সম্মাননা দেন। প্রারম্ভিক ক্যারিয়ারের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মাননা।

সোনেরার প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার হতে পারে ভবিষ্যতের অ্যাপল ওয়াচসহ বিভিন্ন পরিধানযোগ্য ডিভাইসে। বিশেষ করে কিছু স্নায়ু ও পেশিজনিত সমস্যার অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণে এ ধরনের সেন্সর কাজে লাগতে পারে বলে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম অ্যাপলইনসাইডারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া শরীরে কোনো যন্ত্র স্থাপন না করেই মস্তিষ্কের সংকেত শনাক্ত করা সম্ভব হলে চিন্তার মাধ্যমে বিভিন্ন ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তি আরও উন্নত করা সম্ভব হতে পারে। এমন প্রযুক্তি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা ব্যবহারকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সোনেরার প্রযুক্তিতে বৈদ্যুতিক সংকেতের পরিবর্তে চৌম্বকীয় সংকেত শনাক্ত করা হয়। মাথার খুলির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় বৈদ্যুতিক সংকেত দুর্বল হয়ে যায়। এ কারণে চৌম্বকীয় সংকেত শনাক্তের পদ্ধতি ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস বা চিন্তা-নিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

২০১০ সালে সোনেরার সহপ্রতিষ্ঠাতা নিশিতা ডেকা বলেছিলেন, তাদের লক্ষ্য ছিল মস্তিষ্কের ছবি ধারণের প্রযুক্তিকে আরও বহনযোগ্য ও সাশ্রয়ী করে তোলা। পরে তিনি জানান, তাদের প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য মস্তিষ্কের কার্যকলাপ সরাসরি শনাক্ত করা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ অধিগ্রহণের তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, অ্যাপল ২০২৬ সালের মে মাসে সোনেরাকে অধিগ্রহণ করে। তবে অ্যাপল বা সোনেরা কেউই এ অধিগ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। এরই মধ্যে সোনেরার ওয়েবসাইটও বন্ধ হয়ে গেছে।