...|...|...

সারাদেশ

দুই বছর ধরে ঘরে ফিরতে পারছেন না প্রবাসীর মা, অভিযোগ সাবেক পুত্রবধূর বিরুদ্ধে

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৮:৩৮
Shares
দুই বছর ধরে ঘরে ফিরতে পারছেন না প্রবাসীর মা, অভিযোগ সাবেক পুত্রবধূর বিরুদ্ধে

প্রবাসী শওকত হোসেনের মা। ছবি: টাইমস ‍টুডে

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ছেলের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর বিরুদ্ধে বাড়ি দখল করে রাখার অভিযোগ তুলেছেন এক প্রবাসী ও তার পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, বিবাহবিচ্ছেদের পরও সাবেক স্ত্রী স্বামীর বাড়ি ছাড়ছেন না। এ ঘটনায় প্রবাসী শওকত হোসেনের মা ও বোনেরা বাড়িতে যেতে পারছেন না। 

গত দুই বছর ধরে তার মা ঘরছাড়া অবস্থায় রয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। উল্টো একের পর এক মামলায় তাদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের আকদিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন কাতারপ্রবাসী শওকত হোসেন, তার মা ও স্থানীয় গ্রামবাসী।

লিখিত বক্তব্যে শওকত হোসেন জানান, টিকটকের মাধ্যমে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ থানার লস্করপুর গ্রামের ইব্রাহীম মাস্টারের মেয়ে জেসমিন আক্তারের সাথে তার পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৯ সালের ১ মার্চ মামাকে সাথে নিয়ে জেসমিনকে দেখতে গেলে তার স্বজনেরা জোরপূর্বক বিয়ে দেন বলে দাবি শওকতের। পরে স্থানীয় মুরুব্বিদের পরামর্শে জেসমিনকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে পারিবারিক কলহ শুরু হয় বলে জানান শওকত।

তার অভিযোগ, বিভিন্ন হুমকি-ধমকির ঘটনায় ২০২১ সালের ৭ জুলাই জেসমিনের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। কয়েক মাস পর কাতারে চলে যান শওকত। এর মধ্যে তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরে জেসমিন বিভিন্ন সময়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণালংকার দেন বলেও দাবি শওকতের। এরপর তাদের সংসারে আরও একটি ছেলেসন্তানের জন্ম হয়।

শওকতের ভাষ্য, পারিবারিক বিরোধের জেরে তিনি কাতার থেকে জেসমিনকে তালাক দেন। তবে জেসমিন ওই তালাক আইনগতভাবে কার্যকর হয়নি বলে দাবি করলে দেশে ফিরে গত বছরের মার্চে আদালতের মাধ্যমে পুনরায় তালাক দেন তিনি।

এরপর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে বলে অভিযোগ শওকতের। তার দাবি, জেসমিন তার মাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পাশাপাশি তার বোনদেরও বাড়িতে আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। গত দুই বছর ধরে তার মা বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শওকত আরও অভিযোগ করেন, জেসমিন তার কাছে নয় লাখ টাকা ও চার ভরি স্বর্ণালংকার পাওনা দাবি করছেন। এ দাবির পক্ষে ভুয়া স্ট্যাম্প তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তার। এ ঘটনায় গত ২৪ অক্টোবর তিনি উপজেলার কনকাপৈত পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সালিশদার মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, বিবাহবিচ্ছেদের পর ওই নারীর পাওনা-দেনা নিষ্পত্তি এবং পারিবারিক বিরোধ মেটাতে গ্রাম ও থানায় একাধিকবার সালিশ হয়েছে। তার দাবি, ওই নারীকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসে পাওনা-দেনার বিষয়টি সমাধান করতে বলা হলেও তা করা হয়নি। বরং একের পর এক মামলার কারণে শওকতের পরিবার হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয়রা।

শওকতের মা মাসুমা আহমেদ বলেন, ছেলের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী জেসমিন আক্তার আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। গত দুই বছর ধরে আমি ঘরছাড়া।

এ বিষয়ে অভিযোগ তদন্তকারী কনকাপৈত পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশিকুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিনে তদন্ত করা হচ্ছে। জেসমিন আক্তার তার সাবেক স্বামীর কাছে বিভিন্ন পাওনা থাকার কথা জানিয়েছেন। তবে সেগুলোর পক্ষে তার কাছে উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দাবি করা পাওনা বুঝে না পেলে সাবেক স্বামীর বাড়ি ছাড়বেন না বলে তিনি জানিয়েছেন।