স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের আগমনকে কেন্দ্র করে রাতারাতি চেহারা বদলে গেছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের। চিরচেনা নোংরা ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ দূর হয়ে হাসপাতালজুড়ে এখন দেখা যাচ্ছে ঝকঝকে পরিচ্ছন্নতার ছাপ। তবে এই পরিবর্তন কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।
শুক্রবার (৪ জুলাই) সকালে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে প্রস্তুত রাখা হয়েছে একাধিক স্ট্রেচার। প্রতিটি স্ট্রেচারে বিছানো হয়েছে পরিষ্কার বেডশিট ও রাখা হয়েছে বালিশ, যা স্বাভাবিক সময়ে হাসপাতালটিতে খুব একটা দেখা যায় না। অথচ সাধারণ সময়ে স্ট্রেচার পেতেই রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
যেসব ওয়ার্ডের শৌচাগারে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে প্রবেশ করাই কঠিন হয়ে পড়ত, শুক্রবার সকালে সেগুলোতে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত পানি দিয়ে মেঝে পরিষ্কার করছেন। কোথাও চোখে পড়েনি আবর্জনার স্তূপ। পরিদর্শনের ঠিক আগমুহূর্তেও শিশু ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ব্যস্তভাবে কাজ করতে দেখা যায়।
মন্ত্রী আসাকে কেন্দ্র করে এদিন রোগীদের পরিবেশন করা খাবারের মানেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। রোগীদের দেওয়া হয় গরম ও তুলনামূলক উন্নতমানের খাবার। খাবার চেখে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তবে একদিনের এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ওয়ার্ডের বিছানা থেকে ছারপোকার সমস্যা দূর করা সম্ভব হয়নি। রোগীদের বিছানায় ছারপোকার উপস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীও।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন জামাল আহমদ জানান, মন্ত্রী আসার কারণেই হাসপাতাল হঠাৎ এত পরিষ্কার দেখাচ্ছে। অন্য সময় সবসময় নোংরা অবস্থায় থাকে।
নাসির হোসেন নামের আরেক স্বজন বলেন, মন্ত্রী আসায় খাবারের মান ও পরিবেশ সবই বদলে গেছে; ডাক্তার ও নার্সরাও নিয়মিত এসে রোগীর খোঁজখবর নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।



