মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নতুন সংঘাতের ফলে জ্বালানি সংকট তীব্র রূপ নিয়েছে।
এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ মানুষ।
আসাদ সরকারের পতনের দুই বছর পর সিরিয়ায় বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সরকারিভাবে ডিজেলের দাম ৪০ শতাংশ ও গ্যাসের দাম ২৫ শতাংশ বাড়ানোয় হাসাকা-দেইর এজ-জোর মহাসড়ক অবরোধ করেন ক্ষুব্ধ নাগরিকেরা।
অন্যদিকে মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালায় ট্রাকচালকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে জ্বালানির দাম নির্দিষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বছরের শেষ পর্যন্ত আমদানিকারকদের ভর্তুকি দেওয়ার আইনি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে দেশটির কংগ্রেস।
ইউরোপের দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে এই ক্ষোভ। পর্তুগালের এসপিনহো শহরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও স্বেচ্ছাসেবক ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্তেনেগ্রোর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
পরদিন বাধ্য হয়ে পরিবহন ও সামাজিক খাতের জন্য সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। ফ্রান্সেও পেট্রোল ডিপো অবরোধ করা মৎস্যজীবীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনে পরিবহন শ্রমিক সংগঠন ‘মানিবেলা’র ডাকে দেশজুড়ে ধর্মঘট পালন করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি ৫.৬৮ পেসো বাড়ায় বাসচালকেরা আবগারি কর প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সার্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা দরিদ্র ও বিকাশমান অর্থনীতির দেশগুলোতে চরম মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি করবে।


