মুম্বাইয়ে প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচির পুলিশি অনুমতি না পেয়ে গান্ধী জয়ন্তীর দিন ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ে ‘জেল ভরো আন্দোলন’ বা গণ-গ্রেফতার কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ভারতের ব্যাঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় গণমাধ্যম টাইম অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে বলেন, বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়া নাগরিকদের কণ্ঠস্বর দমনের আরেকটি প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, বিক্ষোভের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ে জেল ভরো আন্দোলন শুরু করবে সিজেপি।
ডিপকের এই ঘোষণার মধ্যে দিয়ে সিজেপি ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে চলমান বিরোধ নতুন মাত্রা পেল। সম্প্রতি সংগঠনটি অভিযোগ করে, আসামে তাদের সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা ও কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবককে পুলিশ আটক করেছে।
ডিপকের দাবি, আশুতোষ রাঙ্কা ও তাঁর সহযোগীরা আসামে স্বেচ্ছাসেবকদের একটি ছোট বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। পরে একটি ব্যক্তিগত বাসভবন থেকে রাঙ্কাকে তুলে নেওয়া হয়। তবে তাঁকে বা অন্য স্বেচ্ছাসেবকদের আটকের কারণ কিংবা কোনো অভিযোগের বিষয়ে জানানো হয়নি বলে দাবি করেন ডিপকে।
তিনি আরও বলেন, আশুকে মুক্তি দেওয়া না হলে সিজেপির অন্য সদস্যদের নিয়ে তিনি আসামে যাবেন। প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁদের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাঙ্কার এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাঁকে চলন্ত পুলিশের গাড়িতে দেখা যায়। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, সিজেপি রাজ্যের স্কুলগুলোর প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরার পরিকল্পনা করায় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নির্দেশে তাঁকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের গাড়িতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেও রাঙ্কা একই অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, স্কুলগুলোর বাস্তব চিত্র প্রকাশ পেলে দেশবাসী আসামের প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে পারবে। কাজিরাঙ্গায় করপোরেট স্বার্থে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং বন্যায় প্রাণহানির বিষয়ও তুলে ধরার কথা বলেন তিনি।
তবে রাঙ্কার এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ বা মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
সিজেপির অভিযোগের সমর্থনে বক্তব্য দিয়েছে এনসিপি (এসপি)। দলটির মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডে দাবি করেন, সিজেপির স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে বৈঠকের সময় রাঙ্কাসহ আরও ৪১ জনকে একটি ব্যক্তিগত বাসভবন থেকে ‘বেআইনি ও অসাংবিধানিকভাবে আটক’ করা হয়েছে।
গাওয়ান্ডের অভিযোগ, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং কোন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়েও জানানো হয়নি। তিনি আসামের পরিস্থিতিকে ‘জঙ্গল রাজ’-এর সঙ্গে তুলনা করে দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা যেকোনো ধরনের ভিন্নমতকে ভয় পান।


