ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গোপনে আবুধাবি সফর করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। এমনটাই জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম। তবে এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে আবুধাবিতে যান নেতানিয়াহু। সেখানে শেখ মোহাম্মদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং দিনটি কাটান। ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে সফরটির কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে পাওয়া গোয়েন্দা সতর্কবার্তা নিয়ে ইসরায়েলে নতুন করে বিতর্কের মধ্যেই নেতানিয়াহুর এই গোপন সফরের খবর সামনে এসেছে।
শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, হামাসের হামলার আগেই নেতানিয়াহু সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে একটি গোপন সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন। তবে তিনি তা ইসরায়েলের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জানাননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
‘কান’ জানিয়েছে, নেতানিয়াহু যে ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করেছেন, সেটির মালিক পরিচয় প্রকাশ না করা এক ইসরায়েলি ব্যবসায়ী। বিমানটি ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক সফরে ব্যবহার করে থাকেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটি বিকেলে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে আবুধাবিতে পৌঁছায়। প্রায় চার ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে সেটি ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা হয় এবং রাত ১০টার কিছু পরে সেখানে অবতরণ করে। ইরানের সাথে সংঘাত চলাকালীন আবুধাবি সফরেও নেতানিয়াহু একই বিমান ব্যবহার করেছিলেন বলে জানিয়েছে ‘কান’।
এদিকে আবুধাবিভিত্তিক সংবাদপত্র দ্য ন্যাশনালকে এক আমিরাতি কর্মকর্তা বলেন, অন্যান্য দেশের সাথে নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে আলোচনা করে থাকে, জাতীয় নেতাদের পর্যায়ে নয়।
২০২২ সালের শেষ দিক থেকে ইসরায়েলের বর্তমান সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নেতানিয়াহু। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তাঁর এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহত ও আহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এ ছাড়া গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


