...|...|...

আইন ও আদালত

বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তিন নারীকে বিদেশ যেতে বাধা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:৪৮
Shares
বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তিন নারীকে বিদেশ যেতে বাধা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা এন্ট্রি পারমিশন এবং বিমান টিকিট থাকার পরও তিন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে বিদেশ যেতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসাথে আবেদনকারীদের অভিযোগ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করে আদালতে কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শককে (অ্যাডিশনাল আইজিপি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তী বিদেশযাত্রায় ওই তিন নারীকে যেন কোনো ধরনের আইনগত কারণ ছাড়া বাধা দেওয়া না হয়, সে বিষয়েও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তিন নারীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল ও অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দেন।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী তানজিলা রহমান জুই।

আদালত রুলে জানতে চেয়েছেন, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও আবেদনকারীদের বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। একই সাথে প্রাপ্তবয়স্ক নারী নাগরিকদের বৈধ বিদেশযাত্রায় কেবল অবিবাহিত হওয়া, অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ করা বা এ ধরনের লিঙ্গভিত্তিক বিবেচনায় বাধা না দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ নির্দেশনা প্রণয়ন ও জারির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), অতিরিক্ত আইজিপি, পুলিশ সদর দফতর এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়, আবেদনকারীদের বিদেশযাত্রায় কোনো আদালতের নিষেধাজ্ঞা কিংবা অন্য কোনো আইনগত প্রতিবন্ধকতা ছিল না। তাদের কাছে প্রয়োজনীয় বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা এন্ট্রি পারমিশন এবং বিমান টিকিট থাকার পরও বিমানবন্দর থেকে বিদেশ যেতে দেওয়া হয়নি।

আবেদনকারীদের বক্তব্য, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী অবিবাহিত কি না, তার সঙ্গে বাবা-মা বা অভিভাবক রয়েছেন কি না এসব বিষয় কোনো নাগরিকের বৈধ বিদেশযাত্রা নিয়ন্ত্রণের স্বতন্ত্র আইনগত ভিত্তি হতে পারে না।

রিটে আরও বলা হয়, এ ধরনের আচরণ সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা সমতা ও লিঙ্গবৈষম্যবিরোধী অধিকার, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা আইনের আশ্রয় ও ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং ৩৬ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত চলাফেরার স্বাধীনতার প্রশ্ন উত্থাপন করে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আবেদনকারীদের অভিযোগ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আদালতে কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।