...|...|...

লাইফস্টাইল

বেশি বাঁশ খায় যেসব দেশের মানুষ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৪৫ | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৫০
Shares
বেশি বাঁশ খায় যেসব দেশের মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

বাঁশ শুধু ঘরবাড়ি বা আসবাব তৈরির উপকরণ নয়, বিশ্বের কয়েকটি দেশের মানুষের খাবারেরও অংশ। বিশেষ করে কচি বাঁশের কুঁড়ি বা ‘ব্যাম্ব শুট’ চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নিয়মিত খাওয়া হয়। অঞ্চলভেদে এটি স্যুপ, তরকারি, কারি, ভাত ও মাংসের সাথে রান্না করা হয়; কোথাও আবার গাঁজন করেও সংরক্ষণ করা হয়।

বাঁশের কুঁড়ির দীর্ঘ ইতিহাস

বাঁশের কুঁড়ি চীনের খাদ্যসংস্কৃতির পরিচিত একটি উপাদান। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তাজা ও শুকনো-দুই ধরনের ব্যাম্ব শুটই রান্নায় ব্যবহৃত হয়। স্যুপ, স্টার-ফ্রাই, নুডলস, মাংস ও বিভিন্ন সবজির সাথে এটি রান্না করা হয়। শুকনো কুঁড়ি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে প্রয়োজনমতো খাবারে যোগ করা যায়।

বাঁশের কুঁড়ির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর হালকা মচমচে বা কড়কড়ে গঠন। রান্নার পরও এই বৈশিষ্ট্য অনেকটা বজায় থাকে, যা খাবারে আলাদা স্বাদ ও অনুভূতি যোগ করে। চীনের পাশাপাশি পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রান্নাতেও এ কারণেই বাঁশের কুঁড়ি বেশ জনপ্রিয়।

বাঁশের কুঁড়িতে পুষ্টিগুণ 

বাঁশের কুঁড়িতে খাদ্যআঁশ, কিছু প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। এতে বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ জৈব যৌগও রয়েছে। খাদ্যআঁশ থাকার কারণে এটি সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। তবে বাঁশের কুঁড়িকে কোনো রোগের ওষুধ বা বিশেষ চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর পুষ্টিগুণ প্রজাতি, মাটি, পরিবেশ এবং কীভাবে সংরক্ষণ ও রান্না করা হচ্ছে এসবের ওপরও নির্ভর করতে পারে।

বাঁশের কোন অংশ খাওয়া হয়

বাঁশের পুরো গাছ নয়, খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয় এর মাটির নিচ থেকে বের হওয়া কচি কুঁড়ি। শক্ত হয়ে যাওয়ার আগেই এসব কুঁড়ি সংগ্রহ করা হয়। দেখতে অনেকটা শঙ্কুর মতো এই কুঁড়ির বাইরের অংশ শক্ত ও স্তরযুক্ত হলেও খোসা ছাড়ানোর পর ভেতরের অংশ পাওয়া যায় নরম ও খাওয়ার উপযোগী।

তবে কচি বাঁশের কুঁড়ি সাধারণত কাঁচা খাওয়া হয় না। প্রথমে খোসা ছাড়িয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে সেদ্ধ করা হয়। এরপর ভাজি, তরকারি, স্যুপ কিংবা মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা যায়। আবার দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য অনেক অঞ্চলে বাঁশের কুঁড়ি গাঁজন বা ফারমেন্ট করে রাখা হয়। ফলে একই কুঁড়ি রান্নার ধরন ও প্রক্রিয়াভেদে ভিন্ন স্বাদ ও গন্ধের খাবারে পরিণত হয়।

চীন

বাঁশের কুঁড়ি খাওয়ার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে চীনে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তাজা ও শুকনো-দুই ধরনের কুঁড়িই রান্নায় ব্যবহার করা হয়। স্যুপ, স্টার-ফ্রাই, মাংস, নুডলস ও বিভিন্ন সবজির সাথে এটি রান্না করা হয়। রান্নার পর বাঁশের কুঁড়িতে হালকা মচমচে বা কড়কড়ে অনুভূতি থাকে, যা খাবারের স্বাদ ও গঠনকে আলাদা করে।

জাপান

জাপানে কচি বাঁশের কুঁড়ি পরিচিত ‘টাকেনোকো’ নামে। বসন্তকালে নতুন কুঁড়ি সংগ্রহ করা হয়। ভাত, স্যুপ, স্ট্যু ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবারে এর ব্যবহার রয়েছে। জাপানি খাদ্যসংস্কৃতিতে এটি একটি মৌসুমি উপাদান হিসেবেও পরিচিত।

থাইল্যান্ড

থাইল্যান্ডের বিভিন্ন কারি, স্যুপ ও মশলাদার খাবারে বাঁশের কুঁড়ি ব্যবহৃত হয়। মাংস ও অন্যান্য সবজির সাথে রান্না করার পাশাপাশি কুঁড়ি সংরক্ষণও করা হয়। থাই রান্নায় এর মচমচে গঠন বেশ জনপ্রিয়।

ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম

ইন্দোনেশিয়ায় বাঁশের কুঁড়ি ‘রিবাং’ নামে পরিচিত। স্থানীয় বিভিন্ন সবজি ও মাংসের রান্নায় এটি ব্যবহৃত হয়। আবার গাঁজন করেও সংরক্ষণ করা হয়। ভিয়েতনামেও বাঁশের কুঁড়ি বিভিন্ন স্যুপ, স্ট্যু ও স্থানীয় খাবারের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

মিয়ানমার ও ফিলিপাইন

মিয়ানমার ও ফিলিপাইনের স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতিতেও বাঁশের কুঁড়ির ব্যবহার রয়েছে। তাজা কুঁড়ির পাশাপাশি কোথাও কোথাও গাঁজন করা বাঁশও খাবারে ব্যবহার করা হয়। ফলে অঞ্চলভেদে এর স্বাদ ও রান্নার ধরন ভিন্ন।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল

ভারতের অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবারে বাঁশের কুঁড়ি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মাছ, মাংস কিংবা অন্যান্য সবজির সাথে এটি রান্না করা হয়। অনেক জায়গায় কুঁড়ি গাঁজন করে দীর্ঘদিন সংরক্ষণও করা হয়।

বাংলাদেশেও রয়েছে ব্যবহার

বাংলাদেশে বাঁশের কুঁড়ি সাধারণ খাদ্য নয়। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতিতে কচি বাঁশ ও গাঁজন করা বাঁশের ব্যবহার রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এটি মাছ, মাংস ও সবজির সাথে রান্না করা হয়।

খাওয়ার আগে সতর্কতা জরুরি

বাঁশের কুঁড়িতে খাদ্যআঁশ, কিছু প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে। তবে কাঁচা বাঁশের কুঁড়ি খাওয়া নিরাপদ নয়। কিছু প্রজাতিতে সায়ানোজেনিক গ্লাইকোসাইড থাকতে পারে, যা শরীরে ক্ষতিকর সায়ানাইড তৈরি করতে পারে। তাই খাবারের আগে কুঁড়ি ভালোভাবে পরিষ্কার করে সিদ্ধ বা প্রচলিত নিরাপদ পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করা জরুরি।

বিশ্বের এসব দেশে বাঁশের কুঁড়ি খাওয়ার সংস্কৃতি প্রমাণ করে, একই উদ্ভিদ একেক অঞ্চলে একেকভাবে মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। কোথাও বাঁশ নির্মাণের উপকরণ, আবার কোথাও সেই বাঁশের কচি কুঁড়িই হয়ে উঠেছে পরিচিত ও জনপ্রিয় খাবার।