...|...|...

বিশ্ব

বেলুচিস্তানে হামলা-পাল্টা হামলা, নিরাপত্তা বাহিনীর ৫ সদস্যসহ নিহত ২৭

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:৩৪ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৩:১৭
Shares
বেলুচিস্তানে হামলা-পাল্টা হামলা, নিরাপত্তা বাহিনীর ৫ সদস্যসহ নিহত ২৭

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে কাস্টমস হাউসে হামলা ও পৃথক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ২১ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। একই সময়ে কাস্টমস হাউসে হামলায় দুই কাস্টমস কর্মকর্তা ও এক সরকারি কর্মকর্তাসহ ছয়জন নিরাপত্তাকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর।

পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর)  প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে চাগাই জেলার নোকচা এবং পিশিন জেলার জিয়ারাত ক্রসে একাধিক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকর প্রতিরোধের মুখে ভারত-সমর্থিত প্রক্সি গোষ্ঠী হিসেবে বর্ণিত ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ ও ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’-এর ২১ সদস্য নিহত হয়।

আইএসপিআর বলেছে, ওই রাতে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’-এর সদস্যরা কাস্টমস হাউসে প্রবেশের চেষ্টা করে সমন্বিত হামলা চালায়। নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা জবাব দিলে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। এতে ঘটনাস্থলে ১০ সন্ত্রাসী নিহত হয়। পরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হয়।

গোলাগুলির সময় কাস্টমস বিভাগের দুই কর্মকর্তা ও এক সরকারি কর্মকর্তাসহ ছয়জন দায়িত্ব পালনকালে নিহত হন বলে জানায় আইএসপিআর।

সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, কাস্টমস হাউসে হামলাটি ছিল ‘সন্ত্রাস-অপরাধ চক্রের’ একটি পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড। কাস্টমস কর্মকর্তাদের আইনানুগ দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং এর মাধ্যমে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করাই হামলার উদ্দেশ্য ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে ৩১ আগস্ট বেলুচিস্তানের এন-৪০ কোয়েটা-তাফতান মহাসড়কে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে অবৈধ চেকপোস্ট স্থাপন করে যাত্রীদের চলাচল ব্যাহত করার চেষ্টা করে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সদস্যরা। খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিক অভিযান চালায়। তীব্র গোলাগুলিতে ঘটনাস্থলেই আরও ১১ সন্ত্রাসী নিহত হয়। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধারের দাবি করেছে আইএসপিআর।

এর আগে সোমবার চাগাই এলাকায় রেকো দিক তামা ও স্বর্ণ প্রকল্প থেকে আসা একটি যানবহরের ওপর হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনী ১২ সন্ত্রাসীকে হত্যা করে। একই দিনে ওয়াশুক জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত পৃথক অভিযানে আরও দুই সন্ত্রাসী নিহত হয় বলে জানানো হয়েছে।

আইএসপিআর জানিয়েছে, অবশিষ্ট সন্ত্রাসীদের নির্মূল এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আশপাশের এলাকায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক ফেডারেল শীর্ষ কমিটির অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ পরিকল্পনার আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।

তবে আইএসপিআরের বিবৃতিতে ব্যবহৃত ‘ভারত-সমর্থিত’ ও সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর পরিচয়সংক্রান্ত অভিযোগগুলো পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।