ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সৌদি জাহাজের ওপর অবরোধ ঘোষণা করার পর থেকে এ পর্যন্ত ৫৬টি সৌদি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কিংবা সেগুলোর যাতায়াতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র। খবর মেহের নিউজ এজেন্সির।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) স্থানীয় আল-মাসিরাহ টিভি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার এক বিবৃতিতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি ঘোষণা করেন যে, মোট আটটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে—যার মধ্যে পাঁচটি লোহিত সাগরে এবং তিনটি এডেন উপসাগর ও আরব সাগরে অবস্থিত। এছাড়া আরও ৪৮টি জাহাজকে আটকে দেওয়া বা ফেরত যেতে বাধ্য করা হয়েছে, যার মধ্যে আরব সাগর ও ভারত মহাসাগরের ৩৪টি এবং লোহিত সাগরের ১৪টি জাহাজ রয়েছে।
ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী আরও জানিয়েছে যে, তারা সৌদি আরবের ইয়ানবু, নাজরান, জিজান, আবহা এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের তেল সরবরাহ লক্ষ্য করে নয়টি অপারেশন চালিয়েছে। পাশাপাশি রুইয়েক, আল-আব্র, আল-ওয়াদিয়া, মারিব এবং মোখায় সৌদি শত্রু অবস্থানগুলোর বিরুদ্ধে চৌদ্দটি অপারেশন পরিচালনা করা হয়েছে।
এই অপারেশনগুলোর ফলে শত শত সৌদি সেনা নিহত বা আহত হয়েছে, অস্ত্রাগার ও সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে এবং লোহিত সাগরে পরিচালিত অভিযানে অংশ নেওয়া সামরিক ল্যান্ডিং শিপ ও ১০টিরও বেশি সামরিক বোট ডুবে গেছে বা পুড়ে গেছে।
ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী সৌদি কর্তৃপক্ষকে যেকোনো ধরনের সংঘাত বাড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে যেকোনো উত্তেজনার কঠোর ও সার্বিক জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অবরোধ তুলে নেওয়া, আগ্রাসন বন্ধ করা, বেতন পরিশোধ করা, দখলদার বাহিনী প্রত্যাহার করা এবং ইয়েমেনের সম্পদ তার জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে সৌদি শত্রুপক্ষের হয়ে কাজ করা ইয়েমেনিদেরও নিজ ক্যাম্প ছেড়ে বাড়িতে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে যে তারা ইয়েমেনি নাগরিক এবং তাদের লক্ষ্যবস্তু করতে চায় না ইয়েমেনি বাহিনী।
ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের চলমান অবরোধ ও সামরিক আগ্রাসনের জবাবে একটি বৃহত্তর ‘অবরোধের বিপরীতে অবরোধ’ নীতির অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী।
এই বিকাশমান পরিস্থিতি লোহিত সাগর, আরব সাগর এবং এডেন উপসাগর জুড়ে সৌদি সামুদ্রিক ও জ্বালানি স্বার্থের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

