...|...|...

সারাদেশ

বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে ৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ালেন লঞ্চ মালিকরা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০:৫৪ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ২:৪৮
Shares
বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে ৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ালেন লঞ্চ মালিকরা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বরিশাল-ঢাকাসহ অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন নৌরুটে যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, সরকারি সিদ্ধান্তের আগেই মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় শুরু করেন লঞ্চ মালিকরা।

শ্রেণিভেদে ডেক, কেবিন ও সোফার ভাড়া ২০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। দূরপাল্লার রুটে ভাড়া বৃদ্ধির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। তবে লঞ্চ মালিকদের দাবি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে এবং তা সরকার নির্ধারিত সীমার মধ্যেই রয়েছে।

বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের যাত্রী আসাদুল্লাহ হাসান বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার সময় লঞ্চে এসে নতুন ভাড়ার কথা জানতে পারেন। তিনি জানান, একটি সিঙ্গেল কেবিনের জন্য আগের তুলনায় বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে। আগে যেখানে কেবিনের ভাড়া ১ হাজার টাকা এবং ডেকের ভাড়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে ছিল, বর্তমানে তা বেড়েছে।

অভ্যন্তরীণ নৌরুটের যাত্রী আব্দুর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হলেও সাধারণ মানুষের আয় বাড়েনি। ফলে বাড়তি ভাড়ার চাপ সাধারণ যাত্রীদের ওপর পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বরিশাল লঞ্চ মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ আব্দুর রহিম বলেন, সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির পর থেকেই নৌপথে যাত্রী কমেছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় লঞ্চ পরিচালনার ব্যয় আরও বেড়েছে।

তিনি জানান, মঙ্গলবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে লঞ্চ মালিক সমিতির সঙ্গে নতুন ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে প্রতি কিলোমিটারে ২৩ পয়সা করে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি জানান, বরিশালে বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধ করা হয়েছে এবং নতুন ভাড়ার তালিকা নদীবন্দরে টাঙিয়ে দেওয়া হবে।

বরিশাল নদীবন্দরের বন্দর নিয়ন্ত্রক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। তবে বর্তমানে আদায় করা ভাড়া সরকার নির্ধারিত ভাড়ার সীমার মধ্যেই রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে ডেকের সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৪২৯ টাকা এবং সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ১ হাজার ৬০০ টাকা। এর মধ্যে ডেকের ভাড়া ৫০ টাকা এবং সিঙ্গেল কেবিনে ২০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া ডাবল কেবিনের ভাড়া ২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৪০০ টাকা করা হয়েছে।

বন্দর নিয়ন্ত্রক জানান, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরিশাল নদীবন্দর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর। পদ্মা সেতু চালুর পর সড়কপথে যাত্রী পরিবহন বাড়ায় বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে আগের তুলনায় লঞ্চের সংখ্যা কমেছে। বর্তমানে এ রুটে প্রায় ১৫টি এবং বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে প্রায় ৩০টি লঞ্চ চলাচল করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।