...|...|...

সারাদেশ

বগুড়ায় নিহতের লাশ সড়কে রেখে স্বজনদের বিক্ষোভ

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:৫২ | আপডেট: ১ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:৫৪
Shares
বগুড়ায় নিহতের লাশ সড়কে রেখে স্বজনদের বিক্ষোভ

বগুড়ায় চাঞ্চল্যকর বকুল হত্যা মামলায় আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে নিহতের লাশ সড়কে রেখে বিক্ষোভ ও অবরোধ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বগুড়া শহরের উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

নিহত বকুলের স্বজন ও এলাকাবাসী লাশটি সড়কে রেখে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এতে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়।

অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বগুড়া সদর থানার (ওসি) ইব্রাহিম আলী। তিনি বিক্ষোভকারী ও নিহতের স্বজনদের সাথে কথা বলেন এবং মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন।

ওসি ইব্রাহিম আলী বলেন, ইতোমধ্যে এ ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রমও চলছে।তিনি আরও বলেন আইনের কাছে কারও ছাড় নেই। প্রত্যেক অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনা হবে।

পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যে আশ্বস্ত হয়ে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী সড়ক থেকে লাশ সরিয়ে নেন। পরে জানাজার জন্য লাশ নিয়ে যান তারা। এর মধ্য দিয়ে অবরোধের অবসান ঘটে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

নিহতের স্বজনদের দাবি, বকুল হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে তারা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়া শহরের ঝোপগাড়ি এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে বকুল নামে এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যার অভিযোগ ওঠে। নিহত বকুল শহরের নিশিন্দারা এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. আব্দুল গনি।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, পারিবারিক বিরোধের জেরে বকুলের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে বিরোধের একপর্যায়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জালালউদ্দিন জানান, দুপুর সাড়ে ২টার দিকে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহতের স্ত্রী মোছা. পারভীন বেগমের অভিযোগ, ঘটনার দিন বকুল শ্বশুরবাড়িতে গেলে পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও আত্মীয়স্বজন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বকুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের দিকে নজর রয়েছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের।