দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রীয় ও সরকারি নানা কার্যক্রম রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সম্পন্ন হয়। ফলে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজন। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান মাত্র সাত থেকে আট মিনিটে শেষ হলেও এর প্রস্তুতি শুরু হয় প্রায় এক মাস আগে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ আয়োজনের জন্য অন্তত ২৫টি ধাপে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। সার্বিক আয়োজনে সহযোগিতা করে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই শপথ অনুষ্ঠানের তারিখ, সময় ও স্থান নির্ধারণে কাজ শুরু হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম তদারক করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। পাশাপাশি একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা তৈরি, আমন্ত্রণপত্র ছাপানো ও বিতরণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অতিথিরা আমন্ত্রণপত্র পেয়েছেন কি না—এসব বিষয় নিশ্চিত করে।
প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, বিদেশি কূটনীতিক এবং সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়।
শপথ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বিদেশি অতিথি, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
এত বিপুলসংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির প্রটোকল বজায় রেখে আমন্ত্রণ, আসন নির্ধারণ ও আপ্যায়নের ব্যবস্থা করাই আয়োজনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য নির্ধারিত আসন মেনে চলাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতির কারণে অনুষ্ঠানস্থলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হয়।
বঙ্গভবনের দরবার হলে বর্তমানে প্রায় ৭০০ অতিথির বসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এবার প্রায় ১ হাজার ৫০০ আমন্ত্রণপত্র ছাপানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দরবার হলের ভেতরে অতিরিক্ত আসনের ব্যবস্থা করে প্রায় ৮৫০ জনকে বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। অন্য অতিথিদের জন্য দরবার হলের বারান্দা ও মাঠে প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। সেখানে এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান দেখার ব্যবস্থা থাকবে।
শপথের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়েছে। দরবার হলের বারান্দা ও মাঠে স্থাপিত প্যান্ডেলে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হবে।
এদিকে বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, এবার রাষ্ট্রপতির শপথের পরপরই মন্ত্রিসভার দু-একজন সদস্যও শপথ নিতে পারেন।




