...|...|...

জাতীয়

প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১২:৪০ | আপডেট: ১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:৩২
Shares
প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বুধবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা’।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। দীর্ঘায়ু মানুষের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা এবং পারিবারিক সহায়তার ব্যবস্থাগুলোকে সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রবীণদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সচেতন। কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জীবনচক্রের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি প্রবীণদের নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে সরকার। একই সাথে বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের ধারণার আলোকে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রবীণদের অবহেলার পরিবর্তে তাদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর আওতায় আনতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি এর আওতাভুক্ত মানুষের সংখ্যাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার কাজও চলছে।

প্রবীণদের পরিবার ও সমাজের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়েই বর্তমান বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তাই কল্যাণমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় প্রবীণদের প্রতি যত্নশীল ও সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র-সব পর্যায়েই প্রবীণদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা অব্যাহত রাখা জরুরি। তাদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সমাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করা হচ্ছে।

প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে দীর্ঘদিনের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ যত বেশি বজায় থাকবে, প্রবীণদের যত্ন, সম্মান ও মর্যাদাও তত বেশি সুরক্ষিত থাকবে।

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে দেশের সব প্রবীণ নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য, যেখানে তরুণ থেকে প্রবীণ-প্রতিটি মানুষ নিজের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬-এর সার্বিক সফলতা কামনা করেন।