প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নতুন সাজে সেজেছে খুলনা। সড়কে সৌন্দর্যবর্ধন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও নিরাপত্তা জোরদারসহ নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফর ঘিরে নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে নগরবাসীর প্রত্যাশা শুধু একটি সফর বা আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং দীর্ঘদিনের উন্নয়নবঞ্চনা কাটিয়ে খুলনাকে নিরাপদ, কর্মমুখর ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলা।
খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির তালিকায় রয়েছে উন্নত চিকিৎসাসেবা, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জলাবদ্ধতা নিরসন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, যানজট কমানো এবং সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে এসব দাবি কতটা গুরুত্ব পাবে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে নগরবাসীর মধ্যে।
নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান (মিজান) বলেন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে নগরবাসী স্বস্তিতে নেই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবি, খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদে বসবাস এবং ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারেন।
খুলনার স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতায় অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হয়।
গল্লামারী এলাকার বাসিন্দা রাজু শেখ বলেন, চিকিৎসার জন্য আমাদের অনেক সময় ঢাকায় যেতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবি, খুলনার সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবার মান উন্নত করতে হবে। খুলনাতেই উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিশ্চিত করতে হবে।
একসময় শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত খুলনায় বন্ধ ও রুগ্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং নতুন বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতায় কর্মসংস্থানের সংকট তৈরি হয়েছে। কাজের সন্ধানে তরুণদের অনেকেই অন্য জেলায় পাড়ি জমাচ্ছেন।
শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান সুজন (আকন) বলেন, খুলনায় শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মিল-কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হোক।
নগরীর অন্যতম বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জনজীবন ব্যাহত হয়। পাশাপাশি সুপেয় পানির সংকট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যানজটও ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।
বয়রা এলাকার বাসিন্দা আনাস বলেন, প্রতিবার বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবি, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধান এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।
এদিকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মোংলা বন্দরের সম্ভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর সফরে বন্দরের দুটি নতুন কনটেইনার জেটি নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক সুবিধা সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে। প্রায় ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বন্দরের সক্ষমতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি খুলনা-মোংলা সড়ক, রেল যোগাযোগ ও পশুর চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের দাবি রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ দৃশ্যমান হলেও নগরবাসী চান, সফর শেষ হওয়ার পরও যেন এই শৃঙ্খলা বজায় থাকে। তাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের দাবিগুলো শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে খুলনার উন্নয়নে নতুন গতি আনবে।



