...|...|...

সারাদেশ

এক কলেজে তিন বছরে পাস করেছে ১ জন, চলতি বছরেও পাস শূন্য

এম আই দিদার, চাঁদপুর
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, রাত ২:২০
Shares
এক কলেজে তিন বছরে পাস করেছে ১ জন, চলতি বছরেও পাস শূন্য

এক কলেজে তিন বছরে পাস করেছে ১ জন। ছবি: টাইমস টুডে

কলেজটির নাম ড. সামছুল হক মডেল কলেজ। স্থানীয় ও আশেপাশের এলাকার মাধ্যমিক পেরোনো ছাত্র - ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে ২০০৩ সালে, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণের বহরী এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এ কলেজ। 

অবাক করার বিষয় হচ্ছে, এ কলেজটিতে চলতি বছরসহ গত টানা তিনটি শিক্ষাবর্ষে, এইচএসসির ফলাফলে মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে, পাস করেছে মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী। যা শুধু  ২০২৫ সালেই কেবল মাত্র একজন শিক্ষার্থীর পাস করার রেকর্ড রয়েছে কলেজটির। 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য ও পরিসংখ্যানে জানা গেছে, এ কলেজ থেকে ২০২৪ সালে এইচএসসিতে ১০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। যার মধ্যে একজনও পাশ করতে পারেনি। 

অর্থাৎ পাশের হার শূন্য। ২০২৫ সালে ৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ১ জন। আর চলতি বছর ২০২৬ সালে এ কলেজ থেকে মানবিক বিভাগ থেকে মাত্র ২ জন পরীক্ষার্রী অংশ নেয়। কিন্তু প্রকাশিত ফলাফলে পাস করতে পারেনি কেউ। 

যদিও কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী, বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ ড. সামছুল হক, স্থানীয় ও আশেপাশের এলাকার শিক্ষার প্রসার ঘটাতে এবং ছাত্র -ছাত্রীদের শিক্ষা সহজলভ্য করতে অনেক স্বপ্ন নিয়ে, নিজ নামে এলাকায় এ কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এমনটিই জানিয়েছেন, এলাকার কয়েকজন প্রবীন ও নবীন সচেতন ব্যক্তি। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও  কলেজটির পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা,  এ প্রতিবেদককে বলেন, ২০০৩ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর ২০০৪ সাল থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আসছে। শুরুতে লেখাপড়ার মান ও ফলাফল মোটামুটি সন্তোষজনক ছিল। 

পরবর্তীতে এর শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সেচ্ছাচারীতা, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় পর্যায়ক্রমে প্রতিষ্ঠানটির ছাত্র -ছাত্রী হ্রাস, লেখাপড়ার মান ও ফলাফল তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে। 

ফলে কলেজটির শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্নবিদ্য। পাশাপাশি শিক্ষাবীদ ও সমাজের সচেতন মহলকে হতাশ করেছে।

অন্যদিকে দুইছর লেখাপড়া করে এ দুজন পরিক্ষার্থী উত্তীর্ণ না হতে পারায় প্রতিষ্ঠানটির পাঠদানের মান ও সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে হতাশ এলাকাবাসী।

শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, শিক্ষকদের উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অনিয়মিতা ও কোচিং নির্ভর শিক্ষার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার কারণে মূল পাঠদানের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার মান ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। এবং ফলাফলে ধস নামছে।

এ বিষয়ে ড. সামছুল হক মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন বলেন, আমি কলেজে নাই, প্রতিষ্ঠানটির মালিক কলেজ বন্ধ করে দিয়েছে।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. কামরুজ্জামান জানান, ড. সামছুল হক মডেল কলেজের ফলাফল বিপর্যয়ের কথা জেনেছেন। এ ব্যাপারে কলেজের শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে সভা করা হবে।