...|...|...

সারাদেশ

সেন্টমার্টিনের টিকিট বিক্রি চলছে, জাহাজ চলবে কবে?

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, রাত ১১:২৩
Shares
সেন্টমার্টিনের টিকিট বিক্রি চলছে, জাহাজ চলবে কবে?

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার থেকে সেন্ট মার্টিন রুটে পর্যটকবাহী তিনটি জাহাজ চলাচলের অনুমোদন ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হলেও প্রথম যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে জাহাজ চলাচলের কথা থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এদিন কোনো জাহাজ দ্বীপের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে না। ফলে টিকিট বিক্রি শুরু হলেও পর্যটকদের যাত্রা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে কোনো জাহাজ ছেড়ে যাবে না। জাহাজ মালিকদের সাথে আলোচনা করে টিকিট বিক্রির তারিখ পেছানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভার পর জাহাজ চলাচলের নতুন তারিখ জানানো হবে।

টিকিট বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন কথা বলে পেছানোর ব্যবস্থা করব এবং পরবর্তী ব্যবস্থা করব। বৃহস্পতিবার একটি সভা হবে। তারপর জানাতে পারব কবে থেকে জাহাজ চলবে।’

তবে জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, অনলাইনে ইতিমধ্যে ৭০০টির বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। কিন্তু জাহাজ চলাচলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র এখনো পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত হয়নি। অলরেডি অনলাইনে ৭০০ এর অধিক টিকিট কাটা হয়ে গেছে। কিন্তু এখনও আমরা ক্লিয়ারেন্স পাই নাই।’

অন্যদিকে, এমভি টেকনাফের ব্যবস্থাপক আকতার নূর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, বৃহস্পতিবার থেকে তাদের জাহাজের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। জাহাজটির প্রথম যাত্রা হবে ৬ নভেম্বর।

তিনি বলেন, ‘আমাদের টানা অক্লান্ত পরিশ্রমের সুফল শুরু হলো। আজ থেকেই টিকিট কাটা যাবে এমভি টেকনাফের। কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত শুরু হলো অবশেষে।”

এর আগে ৩ নভেম্বর সেন্ট মার্টিন রুটে চলাচলের জন্য তিনটি জাহাজকে সাময়িক ভয়েজ লাইসেন্স দেয় নৌপরিবহন অধিদপ্তর। জাহাজগুলো হলো এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া ও এমভি টেকনাফ।

পরদিন ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জাহাজগুলোর রুট পারমিট ও চলাচলের সময়সূচি অনুমোদন করে। সেই অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরুর কথা ছিল।

অনুমোদিত সূচি অনুযায়ী, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে এবং এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা। ফিরতি যাত্রায় জাহাজ তিনটির ছাড়ার সময় যথাক্রমে দুপুর ২টা ১৫ মিনিট, দুপুর ২টা ৩০ মিনিট ও বিকাল ৩টা ৩০ মিনিট।

তিনটি জাহাজে একসাথে মোট ২ হাজার ২৯৮ জন যাত্রী চলাচল করতে পারবেন। সরকারের নির্ধারিত দৈনিক ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক প্রবেশের সীমার মধ্যেই রয়েছে এই যাত্রী ধারণক্ষমতা।

এদিকে, সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে পর্যটকদের জন্য ডিজিটাল ট্রাভেল পাস বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থেকে কিউআর কোডযুক্ত এই পাস সংগ্রহ করতে হবে। ট্রাভেল পাস ছাড়া কোনো টিকিট ইস্যু করা যাবে না। কিউআর কোড ছাড়া টিকিটও গ্রহণযোগ্য হবে না। এ ছাড়া কোনো জাহাজ কোম্পানি একবারে ১৫ দিনের বেশি সময়ের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করতে পারবে না।

দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের চলাচল ও কর্মকাণ্ডের ওপরও বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিকের চামচ, স্ট্র, শ্যাম্পু-সাবানের ছোট প্যাকেট এবং ৫০০ ও ১ হাজার মিলিলিটারের প্লাস্টিকের পানির বোতল দ্বীপে নেওয়া যাবে না। এর পরিবর্তে পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সাথে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ করা ও বারবিকিউ পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ। সৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইক চালানো, কেয়াবনে প্রবেশ এবং প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, কচ্ছপসহ সামুদ্রিক প্রাণীর ক্ষতি করা যাবে না। জাহাজ থেকে সাগরে উড়ন্ত পাখিদের খাবার দেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জাহাজে বর্জ্য সংরক্ষণ ও পরিশোধনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়ার কোর এলাকায় কোনো জাহাজ প্রবেশ করতে পারবে না।

এ ছাড়া আবহাওয়া প্রতিকূল হলে অথবা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর বা তার বেশি স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি থাকলে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। মিয়ানমার সীমান্তের পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার যেকোনো সময় নতুন বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষমতাও সংরক্ষণ করেছে।

উল্লেখ্য, সেন্ট মার্টিনে পর্যটন মৌসুম ১ নভেম্বর শুরু হয়ে ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলার কথা। তবে মৌসুম শুরু হলেও জাহাজ চলাচলের তারিখ নিয়ে প্রশাসন ও জাহাজ মালিকদের ভিন্ন বক্তব্যে পর্যটকদের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে।