চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাতের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তার মা সালমা আক্তার। মেয়ের মৃত্যুর পর মুখ খোলা ছবি ছড়িয়ে পড়ায় তা সরিয়ে নিতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামছুন্নাহার বেগম নিহতের পরিবারের সাথে দেখা করে শোক জানাতে গেলে মাইশার মা এ অনুরোধ জানান।
সালমা আক্তার জানান, তার মেয়ে অত্যন্ত লাজুক প্রকৃতির ও পর্দানশীন ছিলেন। তিনি কখনো নিকাব-হিজাব ছাড়া ঘর থেকে বের হতেন না। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর মাইশার মুখ খোলা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মাইশার মায়ের দাবি, ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী এতে মাইশার কবরের আজাব বাড়তে পারে। তাই তিনি মেয়ের ছড়িয়ে পড়া ছবি সব মাধ্যম থেকে সরিয়ে নিতে সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ সময় সংসদীয় সংরক্ষিত নারী আসনের (৩৪৩) সংসদ সদস্য শামছুন্নাহার বেগম শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, হায়াত ও মৃত্যু মহান আল্লাহ থেকে নির্ধারিত। আমরা বিশ্বাস করি মাইশা শহীদি মৃত্যু বরণ করেছে। আমরা মহান আল্লাহর কাছে মাইশার সর্বোচ্চ জান্নাত কামনা করি। তবে এ ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা কারো কাম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সাল থেকে ছাত্রসমাজ নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু বিগত দুটি সরকার ছাত্রদের এই যৌক্তিক আন্দোলনকে সমর্থন দিতে অক্ষম হয়েছে। আমি যেহেতু বর্তমান সরকারের অংশ তাই আমারও এখানে দায়বদ্ধতা আছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকে জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে আমি কথা বলব। আমি ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে কথা বলেছি মহাসড়কের পাশে একটি ট্রমা সেন্টার স্থাপনের জন্য।
শামছুন্নাহার বেগম বলেন, মহাসড়কে যারা দুর্ঘটনায় আহত হয় তাদেরকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া বাঞ্ছনীয়। কিন্তু আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হয় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে। ফলে সম্ভাবনাময়ী অনেক জীবন নিভে যায় দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে।
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালকদের সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা আনতে গাড়িচালকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি প্রয়োজন। এছাড়া তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের চালকদের অনেকেই মাদকাসক্ত। তাদের মাদকমুক্ত করতেও কাজ করতে হবে। এতেই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসতে পারে এবং মাইশাদের মতো আমাদের কলিজার টুকরোগুলো সড়ক দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পাবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের মিরসরাই উপজেলা সেক্রেটারি তানজিনা আক্তার লিপি, ১২ নম্বর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফেজ একরামুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


