...|...|...

সারাদেশ

নিয়োগ বাণিজ্যে এনবিআর কর্মী-শিক্ষকের যোগসাজশ, ফোনালাপ ফাঁস

রিপন ইসলাম শেখ, নীলফামারী
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩৩ | আপডেট: ৪ নভেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩৪
Shares
নিয়োগ বাণিজ্যে এনবিআর কর্মী-শিক্ষকের যোগসাজশ, ফোনালাপ ফাঁস

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোক্তার হোসেন ও এনবিআর কর্মী মো. জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: টাইমস টুডে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর বিভাগের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সাথে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোক্তার হোসেনের যোগাযোগের তথ্য সামনে এসেছে। তাদের একাধিক ফোনালাপের রেকর্ড ভাইরাল হয়েছে। এসব কথোপকথনে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা নেওয়া, নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি (বিকল্প) পরীক্ষার্থী পাঠানো এবং ফাঁকা স্বাক্ষর করা চেক সংগ্রহের বিষয়ে আলোচনা শোনা গেছে।

সম্প্রতি জাহাঙ্গীর আলমের জন্মভূমি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ খড়িবাড়ী গ্রামে অনুসন্ধানের সময় ‘টাইমস টুডে’র হাতে এসব ফোনালাপ আসে। এতে মারুফ হোসেন, আলীনুর ইসলাম, সাদিয়া আক্তার ও মোজাম্মেল হোসেন নামের চার চাকরিপ্রার্থীর নাম উঠে এসেছে।

কথোপকথনে ওই চাকরিপ্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসের পাশাপাশি তাদের পরিবর্তে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী পাঠানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা শোনা যায়। এছাড়া চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে জামানত হিসেবে ফাঁকা স্বাক্ষর করা চেকের পাতা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে।

অডিওতে প্রতিটি প্রার্থীর জন্য আলাদাভাবে ৮ থেকে ১২ লাখ টাকা লেনদেনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে শোনা যায়, টাকার বিনিময়ে ফাঁকা স্ট্যাম্প ও চেকবইয়ের পাতা নেওয়া হয়। জাহাঙ্গীর আলম সেগুলো ঢাকায় পাঠানোর জন্য ডিমলা বাজারের একটি মোটরসাইকেল সার্ভিসিং সেন্টারে দেওয়ার কথা বলছেন।

সম্প্রতি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২টি শূন্যপদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থীর অংশগ্রহণের কথা থাকলেও পরীক্ষার দিন সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় কর্তৃপক্ষ শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত করে। পরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এনবিআর কর্মী মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ সাতজনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এই ঘটনার সূত্র ধরে জাহাঙ্গীরের এলাকায় অনুসন্ধানে গেলে ডিমলার শিক্ষক মোক্তার হোসেনের সাথে তার ফোনালাপের রেকর্ড সামনে আসে। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল চক্রের সাথে স্থানীয় পর্যায়ে আরও কোনো নেটওয়ার্ক জড়িত ছিল কি না এবং চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ ও চেক নেওয়ার পেছনে মূল উদ্দেশ্য কী ছিল।

এ বিষয়ে নীলফামারীর ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, শিক্ষক মোক্তার হোসেনকে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ ছাড়া তার বিরুদ্ধে সরাসরি বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। কল রেকর্ডের বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) দিলে তারা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে গ্রেফতার থাকায় এনবিআর কর্মী জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক মোক্তার হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি তার কর্মস্থল গয়াবাড়ী নবজাগরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েও তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।

এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, প্রশ্নফাঁস রোধে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। আমার উপজেলার কোনো শিক্ষক বা সরকারি কর্মচারী যদি এর সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চাই মেধার মূল্যায়ন হোক, কোনোভাবেই যেন মেধাবীরা বঞ্চিত না হন; এ বিষয়ে প্রশাসন সর্বদা সজাগ রয়েছে।