ভারতের উত্তর প্রদেশে প্রথম স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ রাখা ও তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জেরে স্বামীকে হত্যার দায়ে এক নারী, তার প্রেমিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া এই ঘটনায় ওই নারীর এক কিশোর সন্তানকেও আটক করা হয়েছে। ঘটনার দুই দিন পর নিজ বাসা থেকে দূরে একটি খালের পাশ থেকে ট্রাংকবন্দি অবস্থায় ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম স্ত্রীর সাথে স্বামীর নিয়মিত যোগাযোগের জেরে বারবার ঝামেলার জেরে ওই নারী তার প্রেমিক ও তার সহযোগীকে দিয়ে স্বামীকে হত্যা করান এবং পরবর্তীতে লাশ লুকানো ও গুম করার কাজে সহায়তা করেন।
এনডিটিভির বরাত দিয়ে ডিজিপি (লখনউ দক্ষিণ) মোহাম্মদ মুশতাক সংবাদকর্মীদের জানান, অভিযুক্ত ওই নারীর নাম সুফিয়া বানু। নিহত রামকিশোর বাল্মীকি নামের ওই ব্যক্তির সাথে তার প্রায় চার বছর ধরে সম্পর্ক ছিল এবং তারা প্রায় দুই বছর আগে বিয়ে করেছিলেন।
অতিরিক্ত ডিসিপি রাল্লাপল্লী বসন্ত কুমারকে সাথে নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুশতাক বলেন, বানুর সাথে মুন্না ওরফে মুচ্ছদ (৫২) নামের এক ব্যক্তির অবৈধ সম্পর্ক ছিল, যা রামকিশোর জেনে গিয়েছিলেন। এর ফলে দম্পতির মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো, বিশেষ করে যখন রামকিশোর তার প্রথম স্ত্রী কবিতা দেবীর কাছে যাওয়া এবং তাকে আর্থিকভাবে সহায়তা করা শুরু করেন, যার বিরোধিতা করেছিলেন বানু। এরপর বানু রামকিশোরকে হত্যার জন্য মুন্না এবং তার সহযোগী মোহাম্মদ ইকবাল ওরফে বসির আহমেদ (৪০)-এর সাথে ষড়যন্ত্র করেন।
পুলিশ জানায়, গত ১৪-১৫ সেপ্টেম্বরের রাতে বানু ওই দুই ব্যক্তিকে তার বাড়িতে ডেকে দরজা খোলা রাখেন। রামকিশোর যখন ঘুমাচ্ছিলেন, তখন তারা ঘরে প্রবেশ করে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। অভিযুক্তরা মেঝে প্লাস্টার করে এবং রক্তমাখা ঝাড়ু, ভুক্তভোগীর কাপড় ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি লুকিয়ে ফেলে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করে। এরপর বানু তার ১৬ বছর বয়সি ছেলেকে ডাকেন এবং তাদের চারজন মিলে রামকিশোরের লাশ খাটের নিচে রাখা একটি কাঠের বাক্সে লুকিয়ে রাখেন।
১৫-১৬ সেপ্টেম্বরের রাতে তারা একটি ই-রিকশায় করে লাশটি তুলে নিয়ে যান এবং প্রমাণ ও পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে কানাখাঁর ভাবাখাড়ার কাছে একটি খালের সেতুর নিচে ফেলে আসেন।
নিহত রামকিশোরের প্রথম স্ত্রী কবিতা দেবীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-এর ১০৩ ধারাসহ অন্যান্য ধারায় একটি এফআইআর নথিভুক্ত করে পুলিশ।
ডিজিপি জানান, ই-রিকশার সম্ভাব্য রুট ধরে প্রায় ১৭০-১৮০টি সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে এবং প্রযুক্তিগত ও মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় পুলিশ গাড়িটিকে শনাক্ত করে। শুক্রবার সুফিয়া বানু, মুন্না ও মোহাম্মদ ইকবালকে গ্রেফতার করা হয় এবং বানুর ১৬ বছর বয়সি কিশোর পুত্রকেও আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র এবং লাশ পরিবহনে ব্যবহৃত ই-রিকশাও উদ্ধার করেছে।


