...|...|...

লাইফস্টাইল

প্রতিদিন চায়ের সাথে বিস্কুট খেয়ে বিপদ ডেকে আনছেন না তো?

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৪:২৪ | আপডেট: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:১৭
Shares
প্রতিদিন চায়ের সাথে বিস্কুট খেয়ে বিপদ ডেকে আনছেন না তো?

ছবি: এআই জেনারেটেড

সকালে ঘুম ভাঙার পর ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা আর তার সাথে বিস্কুট- এটি বাঙালির অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একটি সকালের রুটিন। শুধু সকাল নয়, বিকেলের আড্ডা, অফিসের ক্লান্তি কাটানো বা হালকা খিদের সহজ সমাধান হিসেবেও প্রায় প্রতিদিনই আমরা বিস্কুট খেয়ে থাকি। ক্রিম বিস্কুট, মারি বিস্কুট, সল্টি কিংবা ডায়াবেটিক বিস্কুট- যেটিই হোক না কেন, স্ন্যাকস হিসেবে এর জনপ্রিয়তা বেশ পুরোনো।

কিন্তু পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতিদিনের এই ছোট্ট অভ্যাসটি দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য বেশ বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ বিস্কুট মূলত একটি প্রক্রিয়াজাত খাবার, যার উপাদানগুলো পরিপাকতন্ত্র, হৃদযন্ত্র ও রক্তে শর্করার মাত্রায় দীর্ঘমেয়াদে অনিয়ম সৃষ্টি করতে পারে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, প্রতিদিন বিস্কুট খেলে শরীরে ঠিক কী কী ঘটে-

১. রিফাইন্ড ময়দার ক্ষতিকর প্রভাব

বাজারে পাওয়া অধিকাংশ বিস্কুট তৈরি হয় মিহি রিফাইন্ড ময়দা দিয়ে। ময়দা তৈরির প্রক্রিয়ায় আটার ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান প্রায় পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। এর সাথে ময়দাকে সাদা ও মসৃণ করতে ব্যবহৃত রাসায়নিক ব্লিচিং প্রক্রিয়াও পাকস্থলীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

নিয়মিত এই ধরনের ময়দাযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে হজমপ্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

২. রক্তে শর্করা ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

বিস্কুটে থাকে উচ্চমাত্রার পরিশোধিত চিনি ও হাই গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত কার্বোহাইড্রেট। অনেক বাণিজ্যিক বিস্কুটে হাই ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপও ব্যবহৃত হয়। এসব উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, ফলে অগ্ন্যাশয়ের ওপর অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরির চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন এমন চললে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

৩. ট্রান্স ফ্যাট ও পাম অয়েলের উপস্থিতি

বিস্কুট দীর্ঘদিন মচমচে রাখতে এবং উৎপাদন খরচ কমাতে অনেক কোম্পানি সস্তা পাম অয়েল, ডালডা বা আংশিক হাইড্রোজেনেটেড তেল ব্যবহার করে, যা ট্রান্স ফ্যাট হিসেবে পরিচিত। এই ট্রান্স ফ্যাট রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয় এবং ভালো কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। ফলে ধমনীতে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়ে, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

৪. অতিরিক্ত ক্যালরি ও ওজন বৃদ্ধি

বিস্কুটে প্রোটিন বা দ্রবণীয় ফাইবার প্রায় থাকে না বললেই চলে, তাই খাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ক্ষুধা অনুভূত হয়। এর ফলে অজান্তেই সারাদিনে বাড়তি ক্যালরি গ্রহণ হয়ে যায়, যা ধীরে ধীরে ওজন বৃদ্ধি ও পেটের চর্বি জমার কারণ হতে পারে।

 ৫. গ্যাস, অ্যাসিডিটি ও বদহজম

চায়ে বিস্কুট ভিজিয়ে খাওয়া অনেকের প্রিয় অভ্যাস। কিন্তু চায়ের ক্যাফেইন ও ট্যানিনের সাথে বিস্কুটের ময়দা ও প্রিজারভেটিভস মিশে পাকস্থলীতে বাড়তি অম্ল তৈরি করতে পারে। এর ফলে নিয়মিত এই অভ্যাস থেকে বুক জ্বালা, বদহজম, পেট ফাঁপা এমনকি আলসারের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

৬. কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ ও অতিরিক্ত সোডিয়াম

দীর্ঘদিন ভালো রাখতে বিস্কুটে সোডিয়াম মেটাবাইসালফাইট, কৃত্রিম রং, সুগন্ধি এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত লবণ ব্যবহার করা হয়। উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের জন্য এই বাড়তি সোডিয়াম গ্রহণ বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

চায়ের সাথে বিস্কুটের স্বাস্থ্যকর বিকল্প

১. ভাজা মুড়ি বা মাখানা: কম তেলে ভাজা মুড়ি অথবা সামান্য ঘিয়ে রোস্ট করা মাখানা হালকা ও উপকারী স্ন্যাকস হতে পারে।

২. ভেজানো বাদাম: কাঠবাদাম বা আখরোটের মতো বাদাম শরীরে দীর্ঘস্থায়ী শক্তি জোগায় এবং প্রোটিনের ভালো উৎস।

৩. ঘরে তৈরি ওটস কুকিজ: বিস্কুট খেতেই হলে ময়দা ও প্রিজারভেটিভমুক্ত, কম চিনিযুক্ত ঘরোয়া ওটস বা ড্রাই-ফ্রুটস কুকিজ বেছে নেওয়া যেতে পারে।

বিস্কুট হয়তো সাময়িক খিদে মেটাতে সুস্বাদু ও সহজলভ্য একটি খাবার, কিন্তু প্রতিদিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিঃশব্দে শরীরে নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই আজ থেকেই এই অভ্যাসে সচেতনভাবে লাগাম টেনে প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবারের দিকে ঝোঁকা বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে।