...|...|...

বিশ্ব

পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নাকচ করেনি সৌদি আরব

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:৩১
Shares
পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নাকচ করেনি সৌদি আরব

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, সৌদি আরব এখনো পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি গ্রহণের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি কংগ্রেসে পর্যালোচনার মধ্যেই এই মূল্যায়ন গোপন নথির মাধ্যমে আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেসে পাঠানো গোপন নথিতে মার্কিন গোয়েন্দাদের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সৌদি আরব পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি গড়ে তোলার বিকল্পটি পুরোপুরি বাতিল করেনি।

জুলাইয়ে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে স্বাক্ষরিত বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিকে ঘিরে এরই মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, চুক্তিটি সৌদি আরবকে প্রচলিত কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় শিথিল শর্তে নিজস্ব পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে।

চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সম্ভাবনা যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে সৌদি আরবকে বিদেশ থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমদানি করতে হবে। প্রথম দুই বছরে দেশটির মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অর্থনৈতিকভাবে প্রয়োজনীয় কি না এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে যৌথ সমীক্ষা হবে।

পরবর্তীতে প্রয়োজন দেখা দিলে মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবে সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা নির্মাণ করবে। প্রথমে সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা থাকলেও ভবিষ্যতে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আরও একটি সমীক্ষা করার কথা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা বেসামরিক ব্যবহারেও কাজে লাগতে পারে। তবে এই পর্যায়ে পৌঁছানো মানে অস্ত্র-উপযোগী প্রায় ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় পৌঁছানোর পথে বড় একটি প্রযুক্তিগত ধাপ অতিক্রম করা।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, মার্কিন কোম্পানিগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকলে সৌদি আরবের বেসামরিক কর্মসূচিকে সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, এই চুক্তি সৌদিকে পারমাণবিক সহযোগিতার জন্য চীন বা রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়া থেকেও বিরত রাখবে।

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ২০১৮ সালে বলেছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তাহলে তার দেশও একই পথে হাঁটবে। একই সঙ্গে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার ছাড়তে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার অতিরিক্ত সুরক্ষা প্রোটোকল গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেসে পাঠানো গোপন নথিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মূল্যায়নও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেখানে চুক্তির সুরক্ষা ব্যবস্থা ও সৌদি সরকারের দেওয়া আশ্বাসের বিষয়ে তুলনামূলক ইতিবাচক অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

সৌদি সরকার এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও জ্বালানিমন্ত্রী আবদুল আজিজ বিন সালমানের আগের বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি বলেছিলেন, সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচি হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হবে।

তবে কংগ্রেসে চুক্তিটি নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। ওরেগনের ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর জেফ মার্কলি বলেছেন, এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কেবল সৌদি আরবের আশ্বাসের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। তার মতে, যদি সৌদি আরব সত্যিই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিপ্রায় ত্যাগ করে থাকে, তাহলে তাদের নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা দাবি করার প্রয়োজন হতো না এবং আইএইএর কঠোর পরিদর্শন ব্যবস্থাও গ্রহণ করা উচিত ছিল।

শুক্রবার মার্কলি ও কয়েকজন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে চিঠি দিয়ে চুক্তির সমালোচনা করেন। তাদের দাবি, বর্তমান চুক্তি ভবিষ্যতে সৌদি আরবের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা বাড়িয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ সহজ করে দিতে পারে।