...|...|...

বিশ্ব

পাচার রোধে অগ্রগতি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের ‘টিয়ার-২’ তালিকায় বাংলাদেশ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৪৫
Shares
পাচার রোধে অগ্রগতি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের ‘টিয়ার-২’ তালিকায় বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

মানবপাচার রোধ ও আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করলেও অভ্যন্তরীণ পাচার মোকাবিলা এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশিত ২০২৬ সালের মানবপাচারবিষয়ক (টিআইপি) বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে আগের মতোই ‘টিয়ার-২’ বা মধ্যম সারির দেশের ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

এতে উল্লেখ করা হয়, মানবপাচার সম্পূর্ণ নির্মূলের জন্য ওয়াশিংটনের নির্ধারিত ন্যূনতম মানদণ্ড পুরোপুরি অর্জন করতে না পারলেও বাংলাদেশ সরকার এই সংকট মোকাবিলায় নানামুখী জোরালো প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিগত রিপোর্টের তুলনায় সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনায় দেশটির বর্তমান অবস্থান টিয়ার-২ শ্রেণিতেই রাখা হয়েছে।

আইনি অগ্রগতি ও যেসব উদ্যোগের প্রশংসা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবপাচারের বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও বেগবান করতে বাংলাদেশ সরকার নতুন আইনগত ভিত্তি হিসেবে ‘প্রিভেনশন অ্যান্ড সাপ্রেশন অব হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড স্মাগলিং অব মাইগ্রেন্টস অর্ডিন্যান্স-২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। পাশাপাশি অপরাধের তদন্ত ও মামলার সংখ্যা বাড়ানো, সন্দেহভাজনদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং ভুক্তভোগী বাছাইয়ের নির্দেশিকা আধুনিকায়ন করার মতো কার্যকর পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, ভুক্তভোগী নারী ও পুরুষদের দ্রুত সুরক্ষাসেবার আওতায় আনতে এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়াতে একটি ডিজিটাল ‘ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম’ (এনআরএম) পরীক্ষামূলকভাবে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা। অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষাবলয় আরও সুদৃঢ় করার বিভিন্ন পদক্ষেপকেও প্রতিবেদনে ইতিবাচক হিসেবে স্থান দেওয়া হয়েছে।

যেসব ক্ষেত্রে রয়ে গেছে ঘাটতি ও উদ্বেগ

তবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূচকে বাংলাদেশ এখনও কাঙ্ক্ষিত মান অর্জন করতে পারেনি বলে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যে অন্যতম হলো— দোষী সাব্যস্ত হওয়া মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ও কঠোর দণ্ড নিশ্চিত করার হার কমে যাওয়া এবং দেশের ভেতরে সংঘটিত অভ্যন্তরীণ মানবপাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি। প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, দেশের অভ্যন্তরে এখনও মানবপাচারের ঘটনা ব্যাপকভাবে প্রচলিত রয়েছে।

পাশাপাশি, ট্রাফিকিংয়ের শিকার প্রকৃত ভুক্তভোগীদের চিহ্নিত করার হারও নিম্নমুখী। বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বিদেশফেরত অসহায় বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে সুরক্ষা ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম প্রয়োজনের তুলনায় বেশ অপ্রতুল বলে উল্লেখ করা হয়।

এর বাইরেও, অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কর্মীদের কাছ থেকে উচ্চহারে নিয়োগ ফি নেওয়ার পুরোনো প্রথাটি এখনো চালু থাকাকে বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ধরনের চড়া ফি পরিশোধ করতে গিয়ে সাধারণ কর্মীরা প্রায়শই চড়া সুদে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন, যা তাদের পরবর্তীতে সহজেই মানবপাচারের বড় ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র টমাস টমি পিগট মন্তব্য করেছেন যে, মানবপাচার হলো মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সম্মানের মৌলিক মূল্যবোধের ওপর সরাসরি একটি চরম আঘাত। ২০২৬ সালের টিআইপি প্রতিবেদনে আর্থিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে কীভাবে বিভিন্ন অপরাধী চক্র এবং দমনমূলক সরকারগুলো মানবপাচারের মতো ঘৃণ্য অপরাধকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে এবং নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় যারা ব্যর্থ হয়েছেন, প্রতিবেদনে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন মানবপাচারের সাথে জড়িত অপরাধী ও তাদের সব সহায়ক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে এবং তাদের ন্যায়বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে সমস্ত কূটনৈতিক ও আইনি সুযোগ সদ্ব্যবহার করবে।