...|...|...

বিশ্ব

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

ইরানে তিন দিনব্যাপী ভয়াবহ হামলার ছক কষেছে যুক্তরাষ্ট্র

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:৩১
Shares
ইরানে তিন দিনব্যাপী ভয়াবহ হামলার ছক কষেছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেহরানের ওপর বড় ধরনের কোনো সামরিক আক্রমণ চালানো হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এর মধ্যেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে তিন দিনব্যাপী এক তীব্র সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে রাখছে পেন্টাগন। 

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশেই মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অস্ত্রভাণ্ডার, জ্বালানি স্থাপনা এবং অন্যান্য সামরিক কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানার বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে।

খবরাখবরে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ক্যাম্প ডেবিড এ বিষয়ে এক বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে মূলত প্রায় তিন দিন স্থায়ী হতে পারে এমন একটি সংক্ষিপ্ত ও তীব্র সামরিক অভিযানের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সম্ভাব্য হামলাগুলোর প্রধান লক্ষ্য হবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডার। যুদ্ধের শুরুর দিকের পর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস ইতোমধ্যেই এই অস্ত্রভাণ্ডার অনেকটাই পুনর্গঠন করেছে। এছাড়া ইরানের জ্বালানি স্থাপনা এবং আইআরজিসির কমান্ড পোস্ট ও হেডকোয়ার্টারও সম্ভাব্য লক্ষ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এদিকে ‘অ্যাক্সিওস’-এর পৃথক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের লড়াই পুনরায় শুরু করার জন্য কয়েক দিন আগেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডকে প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন। তবে এই নির্দেশিকায় হামলার নির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি এবং ট্রাম্পও এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নতুন করে বড় ধরনের কমব্যাট অপারেশন শুরু হলে তাতে ইরানের জ্বালানি, অবকাঠামো এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বড় পরিসরে বোমা হামলা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

এমন এক সময়ে এই সামরিক প্রস্তুতির খবর এল, যখন গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন যে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে কোনো আক্রমণ চালাবে না। একই সাথে তিনি চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরেন।

নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ চলছে। তবে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে, পেন্টাগনকে নতুন বিকল্প প্রস্তুত করার নির্দেশ দিলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার প্রস্তাবগুলো বারবার নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্প।

পত্রিকাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান এই ব্যাপক সামরিক শক্তি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী উপস্থিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।