ভারতের বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার কর্মীকে আটক করা হলেও পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি পরিকল্পনা অনুযায়ী চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রধান অভিজিৎ দিপকে। আগামী শনিবার নয়াদিল্লিতে এই বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ভোটার তালিকার এই বিতর্কিত সংশোধনের ফলে দেশজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি ভোটার বাদ পড়েছেন। এর জেরে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে এই যুব আন্দোলন, বিরোধী দলগুলো এবং তাদের ছাত্রসংগঠনগুলো।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে বলেন, আমি আগামীকাল দিল্লিতে অবতরণ করব এবং যেকোনো মূল্যে যন্তর মন্তরের দিকে মার্চ করব।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, এই দেশের যুবসমাজ আর আপনাদের ভয় পায় না।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে অন্তত ৯৬ কোটি নিবন্ধিত ভোটার নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম এই গণতান্ত্রিক দেশটিতে গত বছর বিহার রাজ্যের নির্বাচনের আগে ভোটার যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং বর্তমানে অধিকাংশ রাজ্যেই তা সম্পন্ন হয়েছে।
বিক্ষোভের অনুমতি নেই, পুলিশের কঠোর অবস্থান
দিল্লির পুলিশ জানিয়েছে, শনিবারের এই বিক্ষোভের জন্য সিজেপি-র কোনো অনুমতি নেই এবং নিয়ম লঙ্ঘন করা হলে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
রয়টার্স কর্তৃক দেখা একটি সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, ভারতীয় সংঘাতপূর্ণ কাশ্মীরসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল অঞ্চল থেকে হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীকে রাজধানীতে নিয়ে আসা হচ্ছে।
সিজেপি জানিয়েছে, শনিবারের বিক্ষোভে যোগ দিতে রাজধানী অভিমুখে রওনা হওয়া তাদের হাজার হাজার সমর্থককে বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশ আটক করছে। তবে ‘এক্স’-এ পোস্ট করা ভিডিও বা এই দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
এদিকে, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপিবিরোধী এক ডজনেরও বেশি সমমোনা দলের মিত্রদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছে। বিরোধী জোটের প্রতিনিধিরা শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশটির সাংবিধানিক প্রধান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাথে সাক্ষাৎ করবেন।
ট্রেন বাতিল ও মেট্রো স্টেশন বন্ধ
বিক্ষোভের কারণে শনিবার নতুন দিল্লির দিকে আসার কিছু দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। রয়টার্সের দেখা নথিপত্র অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় পুলিশ কম সংখ্যক মেট্রো ট্রেন চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে এবং কিছু মেট্রো স্টেশনের প্রস্থান গেটও বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিরোধী দল ও সমালোচকদের অভিযোগ, প্রায় দুই দশক পর হওয়া এই সর্বশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন মূলত বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য একটি ‘গণহারে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার’ অপচেষ্টা। তারা এই কার্যক্রম পুরোপুরি বাতিল করে পুরনো ভোটার তালিকা পুনর্বহাল করার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, খসড়া সংশোধনের সময় চিহ্নিত ভোটারদের সংখ্যাই এই তালিকায় উঠে এসেছে এবং এই প্রক্রিয়াটি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। এছাড়া যাদের নাম ভুলবশত বাদ পড়েছে, তারা চাইলে আবারও নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।


