প্রতিবেশী দেশ ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই এবার বেলজিয়ামে ফরাসিভাষী অঞ্চলে পড়াশোনার খরচ ও টিউশন ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেছে জেন-জি শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভ চলাকালে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশ শতাধিক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে।
আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, বেলজিয়ামের লিয়েজ শহরে গত মঙ্গলবার ও বুধবার শিক্ষার্থীরা ক্লাসকক্ষ সংকট এবং ফরাসিভাষী শিক্ষা ব্যবস্থায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে জটিলতার অভিযোগে এই বিক্ষোভের ডাক দেন।
বেলগা সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিয়েজ পুলিশের তথ্য মতে বিক্ষোভের সময় মোট ৮০ জনকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছিল এবং এর মধ্যে ২৭ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কিছু মানুষ জনসম্পত্তির ক্ষতি সাধন করে এবং বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
আন্দোলনকারীরা জানান, শিক্ষা ব্যবস্থার বিদ্যমান ত্রুটিগুলোর কারণে তাদের রাজপথে নেমে আসা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।
শিক্ষক হতে ইচ্ছুক ১৯ বছর বয়সি শিক্ষার্থী আমেলিয়া দি সালভ বলেন, যখন আমরা দেখলাম বিক্ষোভ ছাড়া কিছুই বদলাচ্ছে না, তখন আমরা নিজেরা রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত নিলাম। তিনি আরও যোগ করেন যে ফ্রান্সে চলা বিক্ষোভও তাদের কিছুটা প্রভাবিত করেছে।
আরেক ১৯ বছর বয়সি শিক্ষার্থী আলফ্রেড রয়টার্স বার্তা সংস্থাকে বলেন, আমরা একে অপরকে সমর্থন করছি, কারণ আমরা প্রায় একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি।
পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। লিয়েজ শহরের মেয়র উইলি ডিমেয়ার বেলজিয়ান সম্প্রচারমাধ্যম আরটিবিএফকে জানান, আলোচনার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে তরুণরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারবে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের কথা গুরুত্বের সঙ্গে শুনবে।
উল্লেখ্য, বেলজিয়ামে শিক্ষা ব্যবস্থাটি দেশটির ভাষাগত সম্প্রদায়ের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয় এবং এখানে কোনো একক জাতীয় পাঠ্যক্রম নেই। ফ্ল্যান্ডার্স অঞ্চলের ডাচভাষী জনগোষ্ঠী নিজেদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে, আর ফরাসিভাষী ওয়ালোনিয়া অঞ্চল তাদের নিজস্ব পাঠ্যক্রম পরিচালনা করে। এছাড়া দ্বিভাষিক রাজধানী ব্রাসেলসে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের কোথায় ভর্তি করাবেন তা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারেন।
এর আগে, ব্রাসেলসে গ্রীষ্মকালে ফরাসিভাষী অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি ৮৩৫ ইউরো (৯৩০ ডলার) থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ১৯৪ ইউরো (১ হাজার ৩৪০ ডলার) করার প্রতিবাদে বিক্ষিপ্ত সহিংস বিক্ষোভ হয়েছিল। বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট এবং আকাশচুম্বী জ্বালানি খরচের কারণে বেলজিয়ামের শিক্ষা বাজেট বর্তমানে চরম চাপের মুখে রয়েছে, যা ফ্রান্সেও ছাত্র বিক্ষোভকে তীব্র করে তুলতে ভূমিকা রাখছে।


