...|...|...

বিশ্ব

ভিয়েতনামে ২৭০০ বিড়াল চুরি করে মাংস বিক্রি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৮:২০
Shares
ভিয়েতনামে ২৭০০ বিড়াল চুরি করে মাংস বিক্রি

ছবি: সংগৃহীত

ভিয়েতনামে প্রায় ২ হাজার ৭০০ বিড়াল চুরির ও বিক্রির কথা স্বীকার করার পর ১২ জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে হো চি মিন সিটি পুলিশ। মানুষের খাওয়ার জন্য জবাই করার উদ্দেশ্যে এই পোষা প্রাণীগুলোকে চুরি করা হতো বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে বিড়াল ধরার ফাঁদ, পশম ছাড়ানোর যন্ত্র এবং পরিমাপক যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

বিবিসির বরাতে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা রাতে ছোট দলে বিভক্ত হয়ে মোটরবাইকে করে আবাসিক এলাকাগুলোতে ঘুরে বেড়াতো এবং বিড়ালগুলো চুরি করতো। তারা মাছের টুকরো টোপ হিসেবে ব্যবহার করে যেসব বাড়িতে বিড়াল রাখা হতো ঠিক তার বাইরে ফাঁদ পেতে রাখত। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রাণী সুরক্ষা সংস্থা ‘হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিমেলস’-এর তথ্যমতে, ভিয়েতনামে প্রতিবছর মাংসের জন্য আনুমানিক ৫০ লাখ কুকুর এবং ১০ লাখ বিড়াল ধরে পাচার ও জবাই করা হয়।

উল্লেখ্য, ভিয়েতনামে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া বৈধ এবং অনেক রেস্তোরাঁ তাদের মেনুতে প্রকাশ্যে এর বিজ্ঞাপন দেয়। তবে বিক্রেতাদের কাছে প্রাণীগুলোর উৎস সম্পর্কিত বৈধ অনুমতিপত্র থাকতে হয়।

হো চি মিন সিটি পুলিশ বিভাগের অফিসিয়াল সংবাদপত্রের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রতিটি দল প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ১০টি বিড়াল চুরি করতো। গত ৮ জুলাই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫০টি বিড়াল, দুটি ওজন মাপার যন্ত্র, ৫৫টি বিড়াল ধরার ফাঁদ, ১৪টি ব্যাগ, ১৩টি মোবাইল ফোন, সাতটি মোটরবাইক, দুটি পশম ছাড়ানোর যন্ত্র এবং ৬৭ লাখ ভিয়েতনামি ডং (প্রায় ২৫৭ ডলার বা ১৯৫ পাউন্ড) জব্দ করে।

এরপর ১২ জন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা প্রায় ২ হাজার ৭০০ বিড়াল চুরির কথা স্বীকার করে। উদ্ধারকৃত ৫০টি বিড়ালের মধ্যে ১৩টিকে তাদের প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাকিগুলোকে ‘হ্যাভপজ’ নামের একটি অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার সেন্টারে রাখা হয়েছে।

অন্যান্য এশীয় দেশের তুলনায় ভিয়েতনামে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়ার প্রচলন বেশি থাকলেও, প্রচারণাকারীদের মতে মানুষের মানসিকতা ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। ‘হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিমেলস’-এর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এবং পোষা প্রাণীর মালিকদের মধ্যে বিড়ালের মাংসের ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে জনমত জোরালো হচ্ছে, যার প্রায় ৭১ শতাংশই এর ওপর নিষেধাজ্ঞা চায়।

এর আগে, গত জুন মাসে আরেকটি অবৈধ বিড়াল চুরি চক্র গুঁড়িয়ে দিয়ে জবাইয়ের উদ্দেশ্যে পাচার করা চারশতেরও বেশি বিড়াল উদ্ধার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে প্রাণী কল্যাণ গোষ্ঠীটি।