ভারতের প্রখ্যাত আলেম, আরবি ভাষা ও সাহিত্যের গবেষক, লেখক এবং দারুল উলুম নাদওয়াতুল উলামা লখনৌর প্রধান মাওলানা ড. সাঈদুর রহমান আজমি নদভী আর নেই। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ৯২ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাদওয়াতুল উলামা লখনৌর জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মাওলানা ইসতেফাউল হাসান। তার ইন্তেকালের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতসহ পুরো উপমহাদেশের ধর্মীয়, শিক্ষা ও সাহিত্যাঙ্গনে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। আলেম, শিক্ষক, গবেষক, লেখক, শিক্ষার্থী ও গুণগ্রাহীরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন।
মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভীর জন্ম ১৯৩৫ সালের ১৪ মে ভারতের উত্তর প্রদেশের মউ জেলায়। তার বাবা মাওলানা মুহাম্মদ আইয়ুব আজমি ছিলেন একজন খ্যাতিমান আলেম ও মুহাদ্দিস।
১৯৫২ সালে তিনি দারুল উলুম নাদওয়াতুল উলামায় ভর্তি হন। সেখানে মাওলানা সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী হাসানি নদভী (রহ.)-সহ সে সময়ের খ্যাতিমান আলেমদের কাছে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি বাগদাদে যান। সেখানে বিশিষ্ট আলেম ও শিক্ষাবিদ ড. তাকিউদ্দিন হিলালির কাছেও পড়াশোনা করেন।
শিক্ষকতা জীবনের দীর্ঘ সময় নাদওয়াতুল উলামায় আরবি ভাষা ও সাহিত্য পড়িয়েছেন মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি। ১৯৯২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটির আরবি ভাষা ও সাহিত্য অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পান। পরে নাদওয়াতুল উলামার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ সাল থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।
আরবি ভাষা ও সাহিত্যে অবদান
শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও বক্তা হিসেবেও মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমির পরিচিতি ছিল বিস্তৃত। আরবি ভাষা ও সাহিত্য, ইসলামি চিন্তাধারা এবং সমকালীন বিভিন্ন বিষয়ে তার বহু লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
নাদওয়াতুল উলামার আরবি মাসিক পত্রিকা ‘আল-বায়সুল ইসলামী’র সঙ্গেও দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন তিনি। পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই তার সম্পৃক্ততা ছিল। পরবর্তীতে তিনি এর প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। আরবি ভাষা ও সাহিত্যে তার অবদান নিয়ে একাধিক গবেষণা এবং পিএইচডি পর্যায়ের কাজও হয়েছে।
পেয়েছেন বিভিন্ন সম্মাননা
দীর্ঘ শিক্ষকতা, গবেষণা ও দ্বীনি কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন সময় সম্মাননা পেয়েছেন মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি। ২০১৩ সালে নয়াদিল্লির ইনস্টিটিউট অব অবজেক্টিভ স্টাডিজ তাকে আজীবন সম্মাননা দেয়।
এরপর ২০১৯ সালের ২১ নভেম্বর খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি ভাষা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি.লিট. ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। এছাড়া অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা ছিল।
তার মৃত্যুতে ভারত ও উপমহাদেশের ধর্মীয় ও শিক্ষাঙ্গনের পাশাপাশি সাহিত্য মহলেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আলেম, শিক্ষক, লেখক ও শিক্ষার্থীরা তার দীর্ঘ ইলমি ও সাহিত্যিক কর্মজীবনের কথা স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।


